এক ধাক্কায় একশোর বেশি কাউন্সিলরের পদত্যাগ, পুরসভাগুলিতে আলগা হচ্ছে তৃণমূলের রাশ

বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের ধাক্কা কাটতে না কাটতেই এবার নজিরবিহীন সংকটের মুখে পড়ল তৃণমূল কংগ্রেস। ফল প্রকাশের এক মাস পার হওয়ার আগেই রাজ্যের বিভিন্ন পুরসভা থেকে একযোগে পদত্যাগ করেছেন একশোরও বেশি তৃণমূল কাউন্সিলর। এই গণ-পদত্যাগের জেরে পুর প্রশাসনগুলিতে যেমন অচলাবস্থা তৈরি হচ্ছে, তেমনই দলের অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ নিয়েও বড়সড় প্রশ্ন উঠে গেছে। দলের এই বিপর্যয়কে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
পদত্যাগের হিড়িক ও পুরসভার খতিয়ান
নির্বাচনী বিপর্যয়ের পর থেকেই উত্তর ২৪ পরগনা এবং দক্ষিণবঙ্গের একাধিক পুরসভায় ঘাসফুল শিবিরের ভাঙন স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ভাটপাড়া পুরসভা থেকে সর্বোচ্চ ৩০ জন কাউন্সিলর ইস্তফা দিয়েছেন। এছাড়া গারুলিয়া পুরসভার ১৮ জন, হালিসহর পুরসভার ১৬ জন এবং উত্তর ব্যারাকপুর পুরসভার ১৫ জন কাউন্সিলর পদত্যাগ করেছেন। পিছিয়ে নেই দক্ষিণবঙ্গও, কাঁথি পুরসভার ১৪ জন এবং খোদ তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ডায়মন্ড হারবারের ৮ জন কাউন্সিলর পদ ছেড়েছেন। ডায়মন্ড হারবারের ফলতা বিধানসভা উপনির্বাচনে দল চতুর্থ স্থানে পিছিয়ে যাওয়ার পরপরই এই পদত্যাগের ঘটনা বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে।
কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব
এই গণ-পদত্যাগের পেছনে প্রধানত দুটি কারণ উঠে আসছে। একদিকে, পদত্যাগী কাউন্সিলরদের একাংশ দাবি করছেন যে বিধানসভা নির্বাচনে দলের এই ভরাডুবির নৈতিক দায় নিয়ে তাঁরা স্বেচ্ছায় সরে দাঁড়াচ্ছেন। অন্যদিকে, এর পেছনে আইনি ও রাজনৈতিক চাপকেও বড় কারণ হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। সম্প্রতি রাজ্যের নতুন বিজেপি সরকারের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী তৃণমূলের এক ডজনেরও বেশি কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে তোলাবাজি ও দুর্নীতির অভিযোগে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। এই প্রশাসনিক ও আইনি পদক্ষেপের ভয় থেকেও অনেকে তড়িঘড়ি পদত্যাগ করছেন বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বা সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানাননি। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একসঙ্গে এত কাউন্সিলরের পদত্যাগে পুর পরিষেবা যেমন ব্যাহত হবে, তেমনই গ্রাসরুট বা তৃণমূল স্তরে দলের সাংগঠনিক রাশ সম্পূর্ণ আলগা হয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।