শুভেন্দুর মেগা বৈঠকে একঝাঁক তৃণমূল বিধায়ক, দলবদলের জল্পনায় তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি!

বাংলার রাজ্য রাজনীতিতে বড়সড় চমক দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রশাসনিক বৈঠকে যোগ দিলেন একঝাঁক তৃণমূল কংগ্রেস (TMC) বিধায়ক ও এক প্রভাবশালী সাংসদ। মঙ্গলবার নদিয়ার কল্যাণীতে এই হাইপ্রোফাইল বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। শাসকদলের বিধায়কদের এমন বিরোধী শিবিরে পা রাখায় নতুন করে দলবদলের জল্পনা উস্কে উঠেছে রাজনৈতিক মহলে।
নদিয়ার কল্যাণীতে আয়োজিত এই প্রশাসনিক বৈঠকে বিজেপি সরকারের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে হাজির হন তৃণমূলের প্রথম সারির সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারের পাশাপাশি মোট পাঁচজন তৃণমূল বিধায়ক। এদের মধ্যে রয়েছেন হাড়োয়ার বিধায়ক আব্দুল মতিন, দেগঙ্গার আনিসুর রহমান, স্বরূপনগরের বীণা মণ্ডল, বাদুড়িয়ার বুরহানুল মুকাদ্দিম এবং বসিরহাট দক্ষিণের বিধায়ক সুরজিৎ মিত্র। দলগত বৈরিতা ভুলে সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীর বৈঠকে শাসকদলের এই শীর্ষ জনপ্রতিনিধিদের উপস্থিতি চারদিকে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
সৌজন্য নাকি অন্য সমীকরণ?
বৈঠকে অংশ নেওয়া তৃণমূল বিধায়কদের দাবি, এটি নিতান্তই একটি প্রশাসনিক বিষয়। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণে সাড়া দিয়েই তাঁরা সাধারণ মানুষের ও এলাকার উন্নয়নের স্বার্থে এই বৈঠকে যোগ দিয়েছেন। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, লোকসভা ভোটের পরবর্তী এই পরিস্থিতিতে এই ঘটনাকে শুধুমাত্র ‘সৌজন্যমূলক’ হিসেবে দেখা ভুল হবে। এর পেছনে বড় কোনো রাজনৈতিক সমীকরণ বা ভবিষ্যৎ দলবদলের রূপরেখা থাকতে পারে।
তৃণমূলে ফাটল ও সম্ভাব্য প্রভাব
এই বৈঠকের প্রভাব রাজ্যের শাসকদলের অভ্যন্তরে বেশ জোরালো হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে রাজ্যে ক্ষমতা দখলের পর থেকেই তৃণমূলের অন্দরে এক ধরণের চোরা স্রোত বইছিল। এই প্রশাসনিক বৈঠকে দল বেঁধে তৃণমূল বিধায়কদের অংশ নেওয়া স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে, শাসকদলের জেলা স্তরের নেতাদের ওপর শুভেন্দুর ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক প্রভাব এখনও কতটা সক্রিয়। যদি এই জল্পনা সত্য প্রমাণিত হয়, তবে আগামী দিনে তৃণমূলের অন্দরে বড়সড় ফাটল দেখা দিতে পারে, যা বিরোধী শিবিরের হাতকে আরও শক্তিশালী করবে।