‘জেলে রেখে জামাইআদর নয়, সরাসরি BSF-এর হাতে!’ অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের নিয়ে চরম হুঁশিয়ারি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর

পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতার পরিবর্তনের পর অবৈধ অনুপ্রবেশকারী ও রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে নজিরবিহীন কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে নতুন বিজেপি সরকার। রাজ্যে ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে ‘Detect, Delete and Deport’ (চিহ্নিতকরণ, বাদ দেওয়া এবং বহিষ্কার) প্রক্রিয়া। এই আবহে মঙ্গলবার নবান্ন থেকে অনুপ্রবেশকারীদের উদ্দেশ্যে অত্যন্ত কড়া বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, অবৈধভাবে এ রাজ্যে থাকা বাংলাদেশিদের আর জেেলা পাঠিয়ে এ দেশের টাকায় ‘জামাইআদর’ করা হবে না, সরাসরি তুলে দেওয়া হবে সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (BSF) হাতে।
‘দেশের পয়সায় খাবে, ওষুধ দেওয়া হবে, জামাই নাকি!’
মালদা ও লালগোলার ‘হোল্ডিং সেন্টারে’ বেশ কয়েকজন বাংলাদেশিকে পাঠানোর প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী এদিন তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন:
“এইটা তো আইন রয়েছে। কোনও নতুন আইন নয়। এই সব লোকদের চলে যাওয়াই ভাল। আর বাংলাদেশি নাগরিকদের নেওয়ার দায়িত্ব নিয়েছে ওদের সরকার। আমরা পুলিশকে বলে দিয়েছি, জেলে পাঠাতে হবে না। দেশের পয়সায় খাবে, ওষুধ দেওয়া হবে, জামাই নাকি! জলদি জলদি ভাগো!”
মুখ্যমন্ত্রী আরও যোগ করেন যে, অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের কোর্টে বা জেলে পাঠানোর কোনও প্রয়োজন নেই। এতদিন ভোটব্যাঙ্কের রাজনীতির স্বার্থে পূর্বতন সরকার এই আইন প্রয়োগ করেনি। কিন্তু তাঁর সরকার পুলিশকে স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছে— ধরা পড়লেই সরাসরি বিএসএফ-এর হাতে তুলে দিতে হবে এবং বিএসএফ তাঁদের নিজেদের দেশে ফেরত পাঠানোর (Deport) ব্যবস্থা করবে।
জেলায় জেলায় তৈরি হচ্ছে ‘হোল্ডিং সেন্টার’
ডিটেনশন সেন্টারের আদলে রাজ্য সরকারের তরফ থেকে তৈরি করা হচ্ছে এই ‘হোল্ডিং সেন্টার’। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, লালগোলা ও মালদার পর এবার রাজ্যের প্রতিটি জেলাতেই এই ধরনের সেন্টার গড়ে তোলা হবে।
রাজ্য সরকারের নির্দেশিকায় যা বলা হয়েছে:
- কাদের রাখা হবে: বেআইনিভাবে বসবাস করতে গিয়ে ধরা পড়া বাংলাদেশি বা রোহিঙ্গা এবং এ রাজ্যের বিভিন্ন জেল থেকে সাজা খেটে ছাড়া পাওয়া বিদেশি বন্দিদের পুর্নবাসন ও ফেরত পাঠানোর আগে পর্যন্ত এই সেন্টারে রাখা হবে।
- CAA-র বাইরে থাকলেই পদক্ষেপ: নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের (CAA) আওতাভুক্ত নন, এমন সমস্ত অবৈধ বহিরাগতদের অবিলম্বে চিহ্নিত করে গ্রেফতার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে প্রশাসনকে।
সীমান্তে বাংলাদেশে ফেরার হিড়িক
সরকারের এই অল-আউট অ্যাকশনের জেরে ইতিমধ্যেই অনুপ্রবেশকারীদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। যার ফলস্বরূপ, হাকিমপুর চেকপোস্ট সহ বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় অবৈধভাবে ভারতে থাকা বাংলাদেশিদের স্বদেশে ফিরে যাওয়ার লম্বা লাইন ও হিড়িক দেখা যাচ্ছে। নতুন সরকারের এই ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি রাজ্যের সুরক্ষায় এক বড়সড় পদক্ষেপ বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
এক ঝলকে
- অনুপ্রবেশকারীদের তাড়াতে রাজ্যে ‘Detect, Delete and Deport’ নীতি কার্যকর করল শুভেন্দু অধিকারীর সরকার।
- অবৈধ বাংলাদেশিদের জেলে না পাঠিয়ে সরাসরি বিএসএফ (BSF)-এর মাধ্যমে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর নির্দেশ।
- “আমাদের জেলে রেখে সরকারের টাকায় খাবে-পরবে কেন, জামাই নাকি!”— অনুপ্রবেশকারীদের উদ্দেশ্যে মুখ্যমন্ত্রীর চরম বার্তা।
- মালদা ও লালগোলার পর এবার রাজ্যের প্রতিটি জেলাতেই তৈরি করা হচ্ছে ‘হোল্ডিং সেন্টার’।
- সরকারের কড়া বার্তার পর সীমান্ত এলাকায় অবৈধভাবে থাকা বিদেশিদের দেশে ফেরার হিড়িক।