বছরে পাবেন ৬,০০০ টাকা! বাংলায় শুরু মোদি সরকারের নতুন ধামাকা প্রকল্প, জানুন আবেদনের উপায়

মেডিকেল এবং প্রাতিষ্ঠানিক জটিলতার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে পশ্চিমবঙ্গে চালু হলো কেন্দ্রীয় সরকারের কৃষি কল্যাণ প্রকল্প ‘প্রধানমন্ত্রী কিষাণ সম্মান নিধি যোজনা’ বা পিএম কিষাণ। এই প্রকল্পের আওতায় রাজ্যের কৃষকরা বছরে মোট ৬,০০০ টাকা সরাসরি আর্থিক সাহায্য পাবেন। রাজনৈতিক টানাপোড়েনের কারণে দীর্ঘদিন আটকে থাকার পর রাজ্যে ক্ষমতার পরিবর্তনের হাত ধরে এই ঐতিহাসিক প্রকল্পের বাস্তবায়ন শুরু হলো।
নবান্ন সূত্রে জানা গেছে, এই আর্থিক সাহায্য প্রতি মাসে নয়, বরং বছরে তিনটি নির্দিষ্ট কিস্তিতে কৃষকদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সরাসরি পাঠানো হবে। এপ্রিল থেকে জুলাই, আগস্ট থেকে নভেম্বর এবং ডিসেম্বর থেকে মার্চ—এই তিন দফায় ২,০০০ টাকা করে মোট ৬,০০০ টাকা পাবেন সুবিধাভোগীরা। তবে এই সুবিধা পাওয়ার জন্য কৃষকদের কিছু নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করতে হবে, যার মধ্যে অন্যতম হলো আবেদনকারীর নামে চাষযোগ্য জমি থাকা এবং মাসিক আয় নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে থাকা।
কৃষকদের আর্থিক নিরাপত্তা ও গ্রামীণ অর্থনীতিতে প্রভাব
এই প্রকল্প চালুর ফলে রাজ্যের প্রান্তিক কৃষকদের চাষাবাদের খরচ চালানো এবং বীজ-সার কেনার ক্ষেত্রে বড়সড় আর্থিক সুবিধা হবে। বিশেষ করে খরা বা অতিবৃষ্টির মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময়ে এই নিশ্চিত অর্থ গ্রামীণ অর্থনীতি সচল রাখতে সাহায্য করবে। সরকারি কর্মচারী বা ১০,০০০ টাকার বেশি পেনশনভোগী ব্যতীত সমস্ত যোগ্য চাষি সরাসরি ডিজিটাল মাধ্যমে এই সুবিধা পাওয়ায় দুর্নীতিমুক্ত উপায়ে প্রকৃত কৃষকদের কাছে সাহায্য পৌঁছানো সম্ভব হবে।
যাঁরা এই প্রকল্পের সুবিধা নিতে চান, তাঁদের সরকারি নির্দিষ্ট পোর্টালে গিয়ে জমির নথিপত্র, সচিত্র পরিচয়পত্র, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট এবং প্রয়োজনীয় পরিচয়পত্র জমা দিয়ে আবেদন করতে হবে। রাজ্য ভূমি দফতরের রেকর্ড খতিয়ে দেখার পরই চূড়ান্ত তালিকা প্রস্তুত করা হবে।
এক ঝলকে
- পিএম কিষাণ প্রকল্পের আওতায় পশ্চিমবঙ্গের কৃষকরা বছরে মোট ৬,০০০ টাকা আর্থিক সাহায্য পাবেন।
- এই টাকা প্রতি বছর তিনটি কিস্তিতে সরাসরি কৃষকদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠানো হবে।
- আবেদন করার জন্য কৃষকের নিজস্ব চাষযোগ্য জমি, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট এবং পরিচয়পত্র থাকা বাধ্যতামূলক।
- কর্মরত বা অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মী যাঁদের মাসিক বেতন বা পেনশন ১০,০০০ টাকার বেশি, তাঁরা এই সুবিধা পাবেন না।