রবিবারের ছুটির পিছনে লুকিয়ে কোন রহস্য? জানলে ব্রিটিশদের প্রতি রাগ নয়, শ্রদ্ধা জাগবে!

রবিবারের ছুটির পিছনে লুকিয়ে কোন রহস্য? জানলে ব্রিটিশদের প্রতি রাগ নয়, শ্রদ্ধা জাগবে!

রবিবার মানেই যেন এক টুকরো মুক্তির আনন্দ, সারা সপ্তাহের ক্লান্তি দূর করে পরিবারের সঙ্গে কিছুটা অবসর কাটানোর পরম মুহূর্ত। ছোট থেকে বড় সবার কাছেই এই ছুটির দিনটি ভীষণ প্রিয়। কিন্তু আজ আমরা যে রবিবারকে এত আয়েশের সঙ্গে উপভোগ করি, তার পেছনে লুকিয়ে রয়েছে এক দীর্ঘ সংগ্রামের ইতিহাস। একসময় ভারতের বুকে এই সাপ্তাহিক ছুটি পাওয়ার জন্য শ্রমিকদের ঘাম ও রক্ত ঝরাতে হয়েছিল।

সাত দিনের দাসত্ব ও এক নায়কের উদয়

ব্রিটিশ শাসনামলে ভারতের, বিশেষ করে মুম্বইয়ের বস্ত্রকলগুলিতে শ্রমিকদের জীবন ছিল অত্যন্ত দুর্বিষহ। সপ্তাহে কোনো ছুটি ছাড়াই টানা সাত দিন অবিরাম কাজ করতে হতো তাদের। দীর্ঘস্থায়ী এই অমানবিক পরিশ্রমের ফলে বহু শ্রমিক কর্মস্থলেই অসুস্থ হয়ে পড়তেন। শ্রমিকদের এই চরম দুর্দশা দেখে তাদের অধিকার আদায়ে এগিয়ে আসেন নারায়ণ মেঘাজি লোখান্ডে। তিনি হয়ে ওঠেন শ্রমজীবী মানুষের আন্দোলনের প্রধান নায়ক। ১৮৮১ থেকে ১৮৮৪ সালের মধ্যে ব্রিটিশ সরকারের জুলুমের বিরুদ্ধে হাজার হাজার শ্রমিককে একত্রিত করে তিনি তীব্র আন্দোলন, বিক্ষোভ ও চিঠি চালাচালি শুরু করেন। দীর্ঘ সাত বছরের কঠোর লড়াইয়ের পর অবশেষে ব্রিটিশ সরকার নতিস্বীকার করতে বাধ্য হয় এবং ১৮৯০ সালের ১০ই জুন ভারতে রবিবারকে আনুষ্ঠানিকভাবে সাপ্তাহিক ছুটি হিসেবে ঘোষণা করা হয়।

ছুটির দিন হিসেবে রবিবারকে বেছে নেওয়ার কারণ

সাপ্তাহিক ছুটির জন্য রবিবারকে বেছে নেওয়ার পেছনে মূলত ধর্মীয় কারণ জড়িয়ে ছিল। ব্রিটিশ শাসকেরা রবিবার দিনটিতে গির্জায় গিয়ে প্রার্থনা করতেন। অন্যদিকে, ভারতীয় শ্রমিকদের আন্দোলনের প্রেক্ষিতে তাদের বোঝানো হয়েছিল যে রবিবার সূর্যদেবতা এবং ভগবান খান্ডোবার পূজার দিন, তাই এই ধর্মীয় আচরণের স্বার্থেই দিনটিকে ছুটির দিন করা যুক্তিযুক্ত। তবে ভারতে এই নিয়ম চালুর বহু আগে, ৩২১ খ্রিস্টাব্দে রোমান সম্রাট কনস্টান্টাইন প্রথম সমগ্র রোমান সাম্রাজ্যে রবিবারকে ছুটির দিন হিসেবে ঘোষণা করেছিলেন। পরবর্তীতে সেই ঐতিহ্য ইউরোপ হয়ে ব্রিটিশদের মাধ্যমে ভারতীয় উপমহাদেশে প্রবেশ করে। পূর্বপুরুষদের সেই অধিকার আদায়ের লড়াইয়ের ফলেই আজ আমরা প্রতি রবিবারে ছুটির স্বাধীনতা উপভোগ করতে পারছি।

এক ঝলকে

  • ব্রিটিশ আমলে ভারতীয় বস্ত্রকল শ্রমিকদের সপ্তাহে কোনো ছুটি ছাড়াই টানা সাত দিন অমানবিক পরিশ্রম করতে হতো।
  • শ্রমিক নেতা নারায়ণ মেঘাজি লোখান্ডের নেতৃত্বে দীর্ঘ সাত বছরের রক্তক্ষয়ী আন্দোলনের পর শ্রমিকরা সাপ্তাহিক ছুটির অধিকার লাভ করেন।
  • ১৮৯০ সালের ১০ই জুন ব্রিটিশ সরকার ভারতে আনুষ্ঠানিকভাবে রবিবারকে সাপ্তাহিক ছুটি হিসেবে ঘোষণা করে।
  • ৩২১ খ্রিস্টাব্দে রোমান সম্রাট কনস্টান্টাইন বিশ্বে সর্বপ্রথম রবিবারকে ছুটির দিন হিসেবে চালু করেছিলেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *