‘নীরবতাই সম্মতি!’ আফগানিস্তানে বাল্যবিবাহকে আইনি শিলমোহর দিল তালিবান

আফগানিস্তানে শরিয়ত আইনের দোহাই দিয়ে নারীদের অধিকার হরণের প্রক্রিয়া আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে গেল তালিবান সরকার। নারী শিক্ষা ও নারীদের একা চলাফেরার ওপর পূর্বের নিষেধাজ্ঞার পর, এবার বাল্যবিবাহ এবং বিবাহবিচ্ছেদ সংক্রান্ত একটি চরম বিতর্কিত নতুন আইন পাস করেছে তারা। তালিবানের সর্বোচ্চ নেতা হিবাতুল্লা আখুন্দজাদা অনুমোদিত এই আইনের ৩১-ধারায় বলা হয়েছে, বিয়ের কবুলনামায় কোনো কুমারী নাবালিকার নীরবতাকেই তার বিবাহের সম্মতি হিসেবে গণ্য করা হবে। এই মধ্যযুগীয় আইন পাসের ফলে যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটির নারী ও শিশুদের ভবিষ্যৎ চরম অন্ধকারের দিকে ধাবিত হচ্ছে।
অসহায়ত্বের সুযোগ ও আইনি বৈধতা
আফগানিস্তানের বহু এলাকায় এমনিতেই দারিদ্র্যের কারণে বাল্যবিবাহের প্রচলন রয়েছে। নতুন এই আইন সেই কুপ্রথাকে পুরোপুরি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তীব্র অর্থনৈতিক সংকটের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে অনেক পরিবার এখন মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে কিংবা ঋণ মকুবের শর্তে কন্যাসন্তানদের বিয়ে দিতে বাধ্য হবে। আন্তর্জাতিক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ‘গার্লস নট ব্রাইডস’-এর তথ্য অনুযায়ী, আফগানিস্তানে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ মেয়ের বিয়ে হয়ে যায় ১৮ বছর বয়সের আগেই, যেখানে কন্যাপক্ষের প্রাপ্ত অর্থের পরিমাণ ৫০০ থেকে ৩০০০ মার্কিন ডলার পর্যন্ত হয়। নতুন আইনি কাঠামো এই অনৈতিক অর্থ লেনদেন এবং শিশু নির্যাতনকে আরও উসকে দেবে।
আন্তর্জাতিক উদ্বেগ ও স্তব্ধ নারী কণ্ঠ
তালিবান সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন ও স্থানীয় অধিকারকর্মীরা। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতে, এই আইন মূলত কন্যাশিশুদের কণ্ঠকে পুরোপুরি স্তব্ধ করে দেওয়ার শামিল। ২০২১ সালের আগস্টে ক্ষমতা দখলের পর থেকেই তালিবান প্রশাসন আফগান নারীদের শিক্ষা, কর্মসংস্থান এবং স্বাভাবিক জীবনযাত্রার ওপর ধারাবাহিক বিধিনিষেধ আরোপ করে আসছে। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালসহ একাধিক বৈশ্বিক সংস্থা তালিবানের এই নীতিগুলোকে চরম ‘লিঙ্গবৈষম্যমূলক’ বলে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। নতুন এই বৈবাহিক আইন আফগান সমাজে নারীদের ওপর নির্যাতন ও লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতাকে আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে।
এক ঝলকে
- আফগানিস্তানে নতুন আইন পাস করে কুমারী নাবালিকাদের নীরবতাকে বিয়ের সম্মতি হিসেবে গণ্য করার নিয়ম চালু করেছে তালিবান।
- বাল্যবিবাহের ক্ষেত্রে নাবালিকার বাবা ও দাদার সিদ্ধান্তকেই চূড়ান্ত সম্মতি হিসেবে গ্রহণ করা হবে।
- তীব্র অর্থনৈতিক সংকটের কারণে আফগানিস্তানে ৫০০ থেকে ৩০০০ ডলারের বিনিময়ে কন্যাসন্তানদের বিয়ে দেওয়ার প্রবণতা আরও বৃদ্ধির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
- অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালসহ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো এই আইনকে চরম লিঙ্গবৈষম্যমূলক ও বিপজ্জনক বলে আখ্যা দিয়েছে।