মধ্যবিত্তের পকেট ফাঁকা, গরিবের উনুন জ্বলছে না: শুধুই কি বিশ্ব সঙ্কটের অজুহাত?

আকাশছোঁয়া মূল্যবৃদ্ধি, আমজনতার নাভিশ্বাস এবং সরকারের নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন
বর্তমানে দেশের সাধারণ মানুষের সবথেকে বড় মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি ও মুদ্রাস্ফীতি। প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর থেকেই মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারগুলির সামনে প্রধান চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াচ্ছে— কীভাবে সামাল দেওয়া যাবে দৈনন্দিন খরচ। রান্নার গ্যাস, পেট্রোল-ডিজেল, শাকসবজি, দুধ, বিদ্যুৎ থেকে শুরু করে স্কুল ফি— জীবনের প্রতিটি অপরিহার্য ক্ষেত্র এখন সাধারণ মানুষের পকেটে বড়সড় কোপ বসাচ্ছে। একসময় যে মধ্যবিত্ত পরিবার সামান্য হলেও সঞ্চয় করতে পারত, আজ তাঁরা উপার্জনের চেয়ে খরচের হিসেব করতেই বেশি আতঙ্কিত বোধ করছেন।
গ্রাম থেকে শহর, সংকটে প্রতিটি ক্ষেত্র
মূল্যবৃদ্ধির এই আঁচ গ্রামীণ ও নগর জীবনে মারাত্মক সামাজিক ও অর্থনৈতিক সংকট তৈরি করেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম কমলেও, দেশীয় বাজারে পেট্রোল-ডিজেলের দাম না কমায় তার সরাসরি প্রভাব পড়ছে পরিবহন ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর।
- কৃষি ক্ষেত্রে বিপর্যয়: ডিজেলের দাম বাড়ায় সেচকার্য মহার্ঘ হয়ে উঠেছে। পাশাপাশি সার ও বীজের আকাশছোঁয়া দামের কারণে চাষের খরচ বাড়লেও কৃষকদের আয় সেই অনুপাতে বাড়েনি।
- মধ্যবিত্তের শূন্য সঞ্চয়: শহরের বাড়ি ভাড়া, পড়াশোনা ও চিকিৎসার খরচ মেটাতে গিয়ে মধ্যবিত্তের জমানো পুঁজি প্রায় শেষের মুখে। বিশেষ করে গৃহিণীদের ঘরের বাজেট মেলাতে গিয়ে নিজেদের ন্যূনতম ইচ্ছে-আকাঙ্ক্ষা বিসর্জন দিতে হচ্ছে।
বাস্তব স্বস্তির দাবি ও অর্থনীতির ভবিষ্যৎ
আন্তর্জাতিক সংকটের দোহাই দিয়ে সরকার হাত গুটিয়ে রাখলেও, বিশ্বের অন্যান্য বহু দেশ যেখানে ট্যাক্স কমিয়ে বা ভরতুকি (Subsidy) বাড়িয়ে জনগণকে স্বস্তি দিচ্ছে, সেখানে ভারতে সেই উদ্যোগের অভাব স্পষ্ট। দেশের যুবসমাজ যখন কর্মসংস্থানের অভাবে ভুগছে, তখন জ্বালানি তেল ও নিত্যপণ্যের এই লাগাতার মূল্যবৃদ্ধি আমজনতাকে খাদের কিনারায় এনে দাঁড় করিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা যদি এভাবে শেষ হয়ে যায়, তবে দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিও বেশিদিন মজবুত থাকতে পারবে না। তাই এই মুহূর্তে বড় বড় বিজ্ঞাপনের বদলে পেট্রোল-ডিজেলে ট্যাক্স কমিয়ে ও নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে এনে সরকারকে বাস্তবমুখী পদক্ষেপ করার দাবি জানাচ্ছে ওয়াকিবহাল মহল।
এক ঝলকে
- রান্নার গ্যাস, জ্বালানি তেল, বিদ্যুৎ এবং শাকসবজি সহ সমস্ত নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের লাগামহীন দাম বৃদ্ধিতে বিপর্যস্ত আমজনতার জীবন।
- আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমলেও দেশে ট্যাক্স না কমায় সাধারণ মানুষ ও কৃষকরা জ্বালানির চড়া দামের মাশুল গুনছেন।
- মূল্যবৃদ্ধির জেরে মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারের সঞ্চয় পুরোপুরি শেষ হয়ে যাওয়ায় তৈরি হচ্ছে গভীর সামাজিক ও পারিবারিক সংকট।
- কেবল ভাষণের ওপর নির্ভর না করে পেট্রোল-ডিজেলে কর ছাড় ও কর্মসংস্থান বাড়িয়ে সাধারণ মানুষকে দ্রুত স্বস্তি দেওয়ার দাবি উঠছে।