কলকাতা বিমানবন্দরে ছিঁড়ল লিফটের দড়ি, মেরামতির সময় ভয়াবহ দুর্ঘটনায় রক্তাক্ত ৩ কর্মী!

কলকাতা বিমানবন্দরে মেরামতি চলাকালীন লিফটের দড়ি ছিঁড়ে ঘটে গেল এক ভয়াবহ দুর্ঘটনা। মঙ্গলবার দুপুরে বিমানবন্দরের ভেতরে এই বিপত্তির জেরে তিন জন রক্ষণাবেক্ষণ কর্মী গুরুতরভাবে জখম হয়েছেন। আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, যেখানে তাঁদের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের প্রাথমিক অনুমান, যান্ত্রিক ত্রুটি ও সুরক্ষাবিধির গাফিলতির কারণেই এই দুর্ঘটনা ঘটে থাকতে পারে।
অসাবধানতা নাকি যান্ত্রিক ত্রুটি?
বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার দুপুর ১টা নাগাদ বিমানবন্দরের বাস লাউঞ্জের ৩৪ নম্বর লিফটে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। বেশ কয়েক দিন ধরেই লিফটের কিছু ত্রুটি দেখা দেওয়ায় সেটি সাধারণের ব্যবহারের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছিল। আজ দুপুরে যখন কর্মীরা সেটির মেরামতির কাজ করছিলেন, ঠিক তখনই আচমকা লিফটের প্রধান তার বা দড়িটি ছিঁড়ে যায়। মুহূর্তের মধ্যে লিফটটি তীব্র গতিতে নিচে আছড়ে পড়লে ভেতরে থাকা কর্মীরা রক্তাক্ত হন। ঘটনার পরপরই বিমানবন্দরে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
আহতদের অবস্থা এবং সম্ভাব্য প্রভাব
এই দুর্ঘটনায় তিন জন কর্মী মারাত্মকভাবে জখম হয়েছেন। চিকিৎসকদের সূত্রে খবর, আহতদের মধ্যে এক জনের পাঁজরের একাধিক হাড় ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে। বাকি দু’জনের মাথায় গুরুতর আঘাত লেগেছে এবং শরীরের নিচের অংশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এমনকি এক জনের স্নায়ুতন্ত্র বা নার্ভের বড়সড় ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা করছেন চিকিৎসকেরা। বর্তমানে তিন জনেই হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন।
এই ঘটনার জেরে বিমানবন্দরের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা এবং ভারী যন্ত্রাংশ রক্ষণাবেক্ষণের মান নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠে গেল। দেশের অন্যতম ব্যস্ত এই বিমানবন্দরে প্রতিদিন হাজার হাজার যাত্রী যাতায়াত করেন। যাত্রীদের ব্যবহারের লিফটে এমন বিপর্যয় ঘটলে তা আরও বড় রূপ নিতে পারত। গত মার্চ মাসেই কলকাতার আরজি কর হাসপাতালেও একই ধরনের লিফট দুর্ঘটনায় এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছিল। ফলে একের পর এক এই ধরনের ঘটনা শহরের জননিরাপত্তা ও পরিকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণের কড়া নজরদারির অভাবকেই নির্দেশ করছে। কীভাবে এবং কার গাফিলতিতে এই দড়ি ছেঁড়ার ঘটনা ঘটল, তা খতিয়ে দেখতে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত শুরু করেছে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ।