হয় বদলান, না হলে জনরোষে মানুষই বদলে দেবে, পুলিশকে চরম হুঁশিয়ারি মন্ত্রী দিলীপের

হয় বদলান, না হলে জনরোষে মানুষই বদলে দেবে, পুলিশকে চরম হুঁশিয়ারি মন্ত্রী দিলীপের

সল্টলেকের স্বর্ণব্যবসায়ী খুনে অভিযুক্ত রাজগঞ্জের অপসারিত বিডিও প্রশান্ত বর্মণ দীর্ঘ সাত মাস ‘ফেরার’ থাকার পর অবশেষে পুলিশের হাতে ধরা পড়েছেন। তবে কোনো তদন্তের সূত্রে নয়, নিউ টাউনে মত্ত অবস্থায় গাড়ি চালিয়ে দুর্ঘটনা ঘটানোর পরই গ্রেফতার হন তিনি। দীর্ঘদিন ধরে পুলিশের চোখে ধুলো দিয়ে ঘুরে বেড়ানো এই অভিযুক্তের গ্রেফতারির পরই রাজ্যের পুলিশ প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন রাজ্যের পঞ্চায়েত ও প্রাণিসম্পদ উন্নয়নমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। অপরাধীদের আড়াল করার অভিযোগে পুলিশকে কার্যত চরম হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।

পুলিশের ভূমিকা ও মন্ত্রীর ক্ষোভ

প্রশান্ত বর্মণের গ্রেফতারির প্রেক্ষিতে মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ অভিযোগ করেন যে, পুলিশ অনেক ক্ষেত্রেই অপরাধীদের খোঁজার নামে নাটক করে। বাস্তবে অপরাধীদের সঙ্গে তাদের সখ্যতা থাকে। মেদিনীপুরসহ রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে এই একই সমস্যা চলছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। প্রাক্তন তৃণমূল সরকারের আমল থেকেই পুলিশের একাংশের মধ্যে মিথ্যা মামলা দেওয়া, নেতাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বজায় রাখা এবং অপরাধীদের সঙ্গে ভাগাভাগি করার বদভ্যাস তৈরি হয়েছে বলে মন্ত্রীর দাবি। এই অভ্যাস দ্রুত না বদলালে পুলিশকে সাধারণ মানুষের ক্ষোভের মুখে পড়তে হবে বলে তিনি সতর্ক করেন।

আইন অমান্য ও সম্ভাব্য প্রভাব

রাজ্যে নতুন সরকার গঠনের পর শুভেন্দু অধিকারীর হাতে স্বরাষ্ট্র তথা পুলিশ দফতর থাকলেও, ক্যাবিনেট মন্ত্রী হিসেবে দিলীপ ঘোষের এই মন্তব্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, অতীতে ওসি, আইসি বা বিডিওদের রাজনৈতিক স্বার্থে ভুল কাজে ব্যবহার করার কারণেই প্রশাসনের একাংশ আজ সম্পূর্ণ বিগড়ে গিয়েছে। তবে বর্তমান জমানায় এটি আর বরদাস্ত করা হবে না। যারা নিজেদের শুধরে নেবেন না, তাদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ করা হবে এবং প্রয়োজনে ‘গ্যারেজ’ করা হবে। পুলিশের এই নিষ্ক্রিয়তা ও অপরাধমূলক মানসিকতা বজায় থাকলে রাজ্যে আইন-শৃঙ্খলার অবনতি ঘটতে পারে এবং যেকোনো সময় বড়সড় গণরোষ আছড়ে পড়তে পারে বলে রাজনৈতিক মহলের ধারণা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *