কট্টরপন্থীদের হুঙ্কার আর পাঞ্জাব সরকারের নতি স্বীকার, লাহোরে ফিরছে না কৃষ্ণনগর!

কট্টরপন্থীদের হুঙ্কার আর পঞ্জাব সরকারের নতি স্বীকার, লাহোরে ফিরছে না কৃষ্ণনগর!

লাহোরের শতবর্ষ প্রাচীন বহুত্ববাদী ও মিশ্র সংস্কৃতির ইতিহাস ফিরিয়ে আনার সাহসী উদ্যোগে বড়সড় ধাক্কা খেল। কট্টরপন্থী মুসলিম সংগঠনগুলোর তীব্র বিরোধিতার মুখে শেষ পর্যন্ত পিছু হটতে বাধ্য হলেন পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মরিয়ম নওয়াজ়। শহরের ঐতিহাসিক সড়ক, উদ্যান ও মহল্লার পুরনো হিন্দু, শিখ, জৈন এবং ব্রিটিশ আমলের নাম পুনর্বহালের যে সিদ্ধান্ত মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত হয়েছিল, তা আপাতত স্থগিত করা হয়েছে। প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তকে কট্টরপন্থীদের চাপের কাছে নতি স্বীকার হিসেবেই দেখছেন বিশ্লেষকরা।

ঐতিহ্য ফেরানোর সাহসী উদ্যোগ

কয়েক মাস আগে মুখ্যমন্ত্রী মরিয়ম নওয়াজ়ের সভাপতিত্বে পাঞ্জাব মন্ত্রিসভার বৈঠকে লাহোর ও তার আশপাশের এলাকার ঐতিহাসিক নাম পুনরুদ্ধারের একটি বিশেষ পরিকল্পনা অনুমোদিত হয়। ‘লাহোর অথরিটি ফর হেরিটেজ রিভাইভাল’ (এলএএইচআর)-এর সুপারিশে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। দেশভাগের আগে লাহোর ছিল মুসলিম, শিখ ও হিন্দু যৌথ সংস্কৃতির এক অনন্য কেন্দ্রস্থল। সেই ঐতিহ্যকে সম্মান জানাতেই সরকারি নথিতে ন’টি গুরুত্বপূর্ণ জায়গার নাম পরিবর্তনের কাজ শুরু হয়েছিল। এর মধ্যে দীর্ঘ আট দশক পর ‘ইসলামপুরা’র নাম বদলে ‘কৃষ্ণনগর’, ‘বাবরি মসজিদ চক’ বদলে ‘জৈন মন্দির চক’, ‘সুন্নতনগর’ থেকে ‘সন্তনগর’, ‘রহমান গলি’ থেকে ‘রাম গলি’ এবং ‘মুস্তাফাবাদ’ নাম বদলে ‘ধরমপুরা’ করার পরিকল্পনা ছিল। পাশাপাশি ব্রিটিশ আমলের লরেন্স গার্ডেন, ডেভিস রোড ও কুইন্স রোডের নামও ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়।

কট্টরপন্থার প্রভাব ও ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তা

এই নামকরণের সিদ্ধান্ত প্রকাশ্যে আসতেই পাকিস্তানের একাধিক কট্টরপন্থী গোষ্ঠী পাঞ্জাব সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আন্দোলনে নামার হুমকি দেয়। মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশে অমুসলিম বা ঔপনিবেশিক আমলের নাম ফিরিয়ে আনার এই প্রচেষ্টাকে তারা কোনোভাবেই মেনে নিতে রাজি হয়নি। এই তীব্র বিরোধিতার জেরে আইনশৃঙ্খলার অবনতি ও রাজনৈতিক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কায় মরিয়ম নওয়াজ় সরকার শেষ পর্যন্ত পিছটান দিতে বাধ্য হলো। লাহোরের ডেপুটি কমিশনার ক্যাপ্টেন (অবসরপ্রাপ্ত) মহম্মদ আলি ইজ়াজ জানিয়েছেন, নাম পরিবর্তনের কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও নেওয়া হয়নি এবং বিষয়টি বর্তমানে পুনর্বিবেচনার স্তরে রয়েছে। সরকারের এই অবস্থান স্পষ্ট করে দেয় যে, কট্টরপন্থীদের সামাজিক ও রাজনৈতিক চাপের মুখে পাকিস্তানের প্রগতিশীল ও বহুত্ববাদী সাংস্কৃতিক সংস্কারের পথ কতটা কঠিন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *