পাঁচ শোয়ের জাদুতে ঘুরে দাঁড়াবে তামিল সিনেমা, বড় সিদ্ধান্তের ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী বিজয়ের

তামিল চলচ্চিত্র শিল্পকে চরম আর্থিক সংকট এবং দর্শক খরা থেকে মুক্ত করতে এক যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নিয়েছে তামিলনাড়ু সরকার। সোমবার, ২৫ মে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তথা প্রাক্তন অভিনেতা জোসেফ বিজয় সিনেমা হলগুলোর জন্য এক নতুন নির্দেশিকা জারি করেছেন। সরকারের এই পদক্ষেপের ফলে দীর্ঘদিনের মন্দা কাটিয়ে দক্ষিণ ভারতের এই জনপ্রিয় ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি বিপুল আয়ের মুখ দেখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
নতুন সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী, এখন থেকে তামিলনাড়ুর সমস্ত প্রেক্ষাগৃহে নতুন ছবি মুক্তির প্রথম সাত দিন প্রতিদিন পাঁচটি করে শো প্রদর্শন করা যাবে। এই নিয়মটি কেবল সাধারণ কার্যদিবসের জন্যই নয়, বরং সপ্তাহান্ত (উইকেন্ড), সরকারি ছুটি এবং স্থানীয় উৎসবের দিনগুলিতেও সমানভাবে কার্যকর হবে। ফলে মুক্তির প্রথম সপ্তাহেই সিনেমার ব্যবসা এক লাফে অনেকটা বাড়িয়ে নেওয়ার বড় সুযোগ তৈরি হলো।
পুরনো আইনি জটিলতার অবসান
এতদিন পর্যন্ত ১৯৫৭ সালের তামিলনাড়ু সিনেমা (রেগুলেশন) বিধি অনুযায়ী, প্রেক্ষাগৃহগুলোতে দিনে সর্বোচ্চ চারটি শো চালানোর অনুমতি ছিল। উৎসব বা বিশেষ ছুটির দিনে পঞ্চম শো চালানোর সুযোগ থাকলেও, তার জন্য জেলা প্রশাসক বা চেন্নাইয়ের পুলিশ কমিশনারের কাছ থেকে আলাদা করে অনুমতি নিতে হতো। এই দীর্ঘমেয়াদী প্রশাসনিক জটিলতার কারণে প্রযোজক ও হল মালিকরা প্রায়শই সমস্যায় পড়তেন। নতুন নিয়মে সেই জটিলতা পুরোপুরি দূর করা হয়েছে।
এই সুবিধা শুধু মূল তামিল ছবির ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। নতুন তামিল সিনেমার পাশাপাশি অন্য ভাষা থেকে ডাব করা ছবি, রি-রিলিজ বা পুনরায় মুক্তি পাওয়া সিনেমা, শিশুতোষ চলচ্চিত্র এবং ডিজিটাল ও নন-ডিজিটাল সব ধরনের প্রদর্শনের ক্ষেত্রেই এই পাঁচ শোয়ের নিয়ম প্রযোজ্য হবে।
ইন্ডাস্ট্রির আবেদন ও সম্ভাব্য প্রভাব
গত ১৬ মে তামিল চলচ্চিত্র জগতের বিভিন্ন সংগঠন ও প্রেক্ষাগৃহ মালিকরা যৌথভাবে মুখ্যমন্ত্রী জোসেফ বিজয়ের কাছে একটি আবেদন জানিয়েছিলেন। সিনেমা হলে দর্শক ফেরাতে এবং প্রাথমিক পর্যায়েই ব্যবসার পরিধি বাড়াতে তাঁরা অতিরিক্ত শোয়ের দাবি তোলেন। সেই আবেদনের গুরুত্ব অনুধাবন করেই মুখ্যমন্ত্রী দ্রুত এই সবুজ সংকেত দিলেন।
চলচ্চিত্র বিশ্লেষক, প্রযোজক এবং পরিবেশকদের মতে, এই সিদ্ধান্তের ফলে বক্স অফিসে ছবির আয় এক ধাক্কায় অনেক বেড়ে যাবে। প্রথম সপ্তাহেই সিংহভাগ লগ্নি তুলে আনা সম্ভব হলে তামিল সিনেমা তার হারিয়ে যাওয়া গৌরব ফিরে পাবে এবং সামগ্রিকভাবে এই বিনোদন শিল্পের অর্থনৈতিক কাঠামো আরও শক্তিশালী হবে।