জেলায় জেলায় তৃণমূল কাউন্সিলরদের গণ-ইস্তফা, কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে দরজা বন্ধ করল বিজেপি!

জেলায় জেলায় তৃণমূল কাউন্সিলরদের গণ-ইস্তফা, কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে দরজা বন্ধ করল বিজেপি!

রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের পর পুরপ্রশাসনিক স্তরে এক নজিরবিহীন রাজনৈতিক সংকট তৈরি হয়েছে। উত্তর ২৪ পরগনার হালিশহর, ভাটপাড়া, কাঁচড়াপাড়া, গারুলিয়া থেকে শুরু করে দক্ষিণ ২৪ পরগনার ডায়মন্ড হারবার পর্যন্ত একাধিক জেলায় তৃণমূল পরিচালিত পুরবোর্ডগুলো থেকে দলে দলে কাউন্সিলররা পদত্যাগ করছেন। এই গণ-ইস্তফার জেরে ঘাসফুল শিবিরের পক্ষে এখন পুরবোর্ড টিকিয়ে রাখাই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাজনৈতিক মহলে তীব্র শোরগোলের মধ্যেই এই বিষয়ে অত্যন্ত কড়া ও বিস্ফোরক প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন রাজ্যের বর্তমান পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল।

তীব্র কটাক্ষ ও প্রশাসনিক উদ্বেগ

পদত্যাগী তৃণমূল কাউন্সিলরদের কড়া ভাষায় আক্রমণ করে পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল তাঁদের তীব্র কটাক্ষ করেছেন। সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি অভিযোগ করেন যে, বিগত ১৫ বছর ধরে রাজ্যে ক্ষমতায় থাকাকালীন এই কাউন্সিলররা দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এখন রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর কড়া নজরদারির ভয়ে এবং নতুন করে সুবিধা করতে না পেরেই তাঁরা পদত্যাগ করছেন। একই সঙ্গে সামনেই বর্ষা মরশুম থাকায় এই গণ-ইস্তফাকে চরম দায়িত্বজ্ঞানহীনতা বলে আখ্যা দিয়েছেন তিনি। শহরের জলনিকাশি থেকে শুরু করে একাধিক জরুরি নাগরিক পরিষেবা সচল রাখার এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে কাউন্সিলরদের অফিস না আসা এবং পদত্যাগের সিদ্ধান্ত সাধারণ মানুষকে বিপদে ফেলবে বলে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তবে প্রশাসন বিকল্প উপায়ে নাগরিকদের পরিষেবা সচল রাখতে বদ্ধপরিকর বলেও তিনি স্পষ্ট করে দেন।

পদ্ম শিবিরের দরজা বন্ধ

তৃণমূল কাউন্সিলরদের এই আকস্মিক পদত্যাগের জেরে রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা শুরু হয়েছিল যে, তাঁরা হয়তো দলবদলের উদ্দেশ্যে এবং বিজেপিতে যোগ দেওয়ার লক্ষ্যেই এই পথ বেছে নিয়েছেন। তবে এই জল্পনায় পুরোপুরি জল ঢেলে দিয়েছেন পুরমন্ত্রী তথা বিজেপি নেত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, এই ইস্তফাকারী কাউন্সিলরদের জন্য বিজেপির দরজা সম্পূর্ণ বন্ধ। দলের রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের সিদ্ধান্ত পুনর্ব্যক্ত করে তিনি স্পষ্ট করেন, তৃণমূল থেকে কাউকেই আর বিজেপিতে নেওয়া হবে না।

পরিষেবা বিপন্ন হওয়ার আশঙ্কা

রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই গণ-পদত্যাগের ফলে হালিশহর, ভাটপাড়া কিংবা ডায়মন্ড হারবারের মতো গুরুত্বপূর্ণ পুরসভাগুলোতে দৈনন্দিন প্রশাসনিক কাজ থমকে যেতে পারে। বিশেষ করে বর্ষার মুখে নিকাশি নালা পরিষ্কার বা পানীয় জলের তদারকির মতো জরুরি কাজগুলো মুখ থুবড়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। একদিকে দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্তদের দলে না নেওয়ার বিষয়ে বিজেপি তাদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে, অন্যদিকে এই ব্যাপক ভাঙন রুখে পুরবোর্ডগুলো সচল রাখতে তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব কী কৌশল অবলম্বন করে, সেটাই এখন দেখার।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *