পঞ্চায়েত অফিসের সামনেই ঝুলল প্রধানের স্বামীর দেহ, কালনায় খুনের অভিযোগ পরিবারের

পূর্ব বর্ধমানের কালনা-১ নম্বর ব্লকের কৃষ্ণদেবপুর পঞ্চায়েত এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। যে সরকারি ভবনে স্ত্রী কাজ করেন, ঠিক সেই পঞ্চায়েত অফিসের মূল ফটকের সামনে থেকেই উদ্ধার হয়েছে প্রধানের স্বামী মৃণাল বিশ্বাসের (৪৩) ঝুলন্ত দেহ। মঙ্গলবার সকালে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে গোটা গ্রামে ব্যাপক শোরগোল পড়ে যায়। খবর পেয়ে কালনা থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মৃতদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করলেও এই মৃত্যুকে ঘিরে রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে নানা গুঞ্জন শুরু হয়েছে।
দাম্পত্য কলহ নাকি পরিকল্পিত চক্রান্ত
মৃত মৃণাল বিশ্বাস পেশায় একজন রাজমিস্ত্রি ছিলেন। তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে এই ঘটনাকে সাধারণ আত্মহত্যা বলে মানতে নারাজ। মৃতের মায়ের সরাসরি অভিযোগ, তাঁর ছেলেকে চক্রান্ত করে খুন করা হয়েছে এবং এর পেছনে তাঁর পুত্রবধূ তথা স্থানীয় পঞ্চায়েত প্রধান লিপিকা বিশ্বাস ও তাঁর প্রেমিক জড়িত রয়েছেন। পরিবারের দাবি, পঞ্চায়েত প্রধান বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ার পর থেকেই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে চরম অশান্তি চলছিল। সেই কলহের জেরেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে বলে তাঁদের অনুমান।
অভিযোগ অস্বীকার পঞ্চায়েত প্রধানের
অন্যদিকে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন পঞ্চায়েত প্রধান লিপিকা বিশ্বাস। তাঁর বক্তব্য, গত দুই বছর ধরে স্বামীর সঙ্গে তাঁর কোনও যোগাযোগ ছিল না এবং তাঁরা আলাদাই থাকতেন। এমনকি আদালতে তাঁদের বিবাহবিচ্ছেদের মামলাও চলছে। কোনও রকম পরকীয়া সম্পর্কের কথা অস্বীকার করে প্রধান জানিয়েছেন, কেন বা কী কারণে তাঁর স্বামী পঞ্চায়েত অফিসের সামনে এসে এমন কাণ্ড ঘটালেন, তা তাঁর জানা নেই। তিনি নিজেই পুলিশকে বিষয়টি খতিয়ে দেখার অনুরোধ জানিয়েছেন।
পুলিশ আপাতত একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে তদন্ত প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। প্রাথমিক তদন্তে এটিকে আত্মহত্যা বলে মনে করা হলেও, ঘটনার স্থান নির্বাচন এবং পরিবারের খুনের অভিযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট আসার পরেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ স্পষ্ট হবে। তবে এই ঘটনার জেরে কৃষ্ণদেবপুর পঞ্চায়েত এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ও আইনশৃঙ্খলার অবনতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।