হকারদের চোখের জলে মর্মাহত মমতা, উচ্ছেদ অভিযানের তীব্র প্রতিবাদে রাজপথে তৃণমূল

আন্তর্জাতিক হকার দিবসে রাজ্যের একাধিক রেল স্টেশন চত্বরে চলমান হকার উচ্ছেদ অভিযানের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদ প্রকাশ করেছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। হাওড়া, শিয়ালদহসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রেল স্টেশন ও সংলগ্ন এলাকায় কেন্দ্রীয় সরকার ও রেল কর্তৃপক্ষের এই উচ্ছেদ অভিযানের বিরুদ্ধে হকারদের পাশে থাকার জোরালো বার্তা দিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে দলীয় নেত্রীর নির্দেশে এই উচ্ছেদের প্রতিবাদে কলকাতার রাজপথে নেমে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন শাসকদলের শীর্ষ বিধায়করা।
তৃণমূল স্তরের অর্থনীতি ও নগর পরিকল্পনার সংকট
সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গের একাধিক রেল স্টেশন এলাকায় ব্যাপক হকার উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়েছে। হাওড়া স্টেশনের বাইরে বুলডোজার দিয়ে দোকান ভেঙে দেওয়া এবং শিয়ালদহ স্টেশনের ভেতরে হকারদের সরিয়ে দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা তৈরি হয়। এই পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সামাজিক মাধ্যমে ক্ষোভ উগরে দিয়ে জানান, হকাররা হলেন তৃণমূল স্তরের অর্থনীতির মূল ভিত্তি। তাঁরা সাধারণ মানুষের দৈনিক চাহিদার যোগসূত্র হিসেবে কাজ করেন। তবে এই ব্যবস্থার টিকে থাকা এবং নগর পরিকল্পনার মধ্যে একটি সূক্ষ্ম ভারসাম্য বজায় রাখা জরুরি। হকারদের পুনর্বাসন না দিয়ে এভাবে জোরপূর্বক উচ্ছেদ করার ফলে হাজার হাজার পরিবার চরম আর্থিক অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে, যা রাজ্য ও কেন্দ্রের মধ্যে রাজনৈতিক সংঘাতকে আরও উস্কে দিয়েছে।
রাজপথে নেমে প্রতিবাদের ঝড়
উচ্ছেদ অভিযানের এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে বিধানসভায় শাসকদলের বিধায়কদের ধরনার পর এবার রাজপথে নেমেছে তৃণমূল কংগ্রেস। দলীয় নির্দেশ মেনে শিয়ালদহ, হাওড়া ও বালিগঞ্জে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করা হয়। শিয়ালদহ স্টেশন চত্বরে প্লাস্টিকের ত্রিপল পেতে এবং হাতে চোঙ নিয়ে বিক্ষোভে শামিল হন বিধায়ক কুণাল ঘোষ, নয়না বন্দ্যোপাধ্যায় ও মদন মিত্র। হকারদের রুটি-রুজি কেড়ে নেওয়ার এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে তৃণমূল আগামী দিনে আরও বড় আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছে, যা রাজ্যের হকার পুনর্বাসন নীতি এবং কেন্দ্রীয় রেল কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের মধ্যে আইনি ও রাজনৈতিক টানাপোড়েন আরও বাড়িয়ে তুলবে বলে মনে করা হচ্ছে।