কয়লা দুর্নীতি মামলায় বড় ধাক্কা খেল সিবিআই, বেকসুর খালাস প্রাক্তন মন্ত্রীর ভাইসহ ৪ আধিকারিক!

কয়লা দুর্নীতি মামলায় বড় ধাক্কা খেল সিবিআই, বেকসুর খালাস প্রাক্তন মন্ত্রীর ভাইসহ ৪ আধিকারিক!

ছত্তিশগড়ের বিজয় সেন্ট্রাল কোল ব্লক বরাদ্দে কারচুপির মামলায় বড়সড় ধাক্কা খেল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই। পর্যাপ্ত সাক্ষ্যপ্রমাণের অভাবে দিল্লির বিশেষ আদালত এসকেএস ইস্পাত অ্যান্ড পাওয়ার লিমিটেড সংস্থাসহ চারজনকে বেকসুর খালাস করেছে। মুক্তিপ্রাপ্তদের তালিকায় রয়েছেন প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুবোধকান্ত সহায়ের ভাই সুধীর কুমার সহায় এবং ওই সংস্থার চার উচ্চপদস্থ আধিকারিক।

প্রমাণের অভাবে মুখ থুবড়ে পড়ল সিবিআইয়ের অভিযোগ

মামলার রায় ঘোষণার সময় দিল্লির বিশেষ আদালতের বিচারপতি সুনেনা শর্মা স্পষ্ট জানান, সিবিআইয়ের তরফে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রতারণা ও ষড়যন্ত্রের যে অভিযোগ তোলা হয়েছিল, তার সপক্ষে পর্যাপ্ত প্রমাণ নেই। তদন্তকারী সংস্থা যে সমস্ত তথ্যপ্রমাণ আদালতে পেশ করেছে, তা আইনিভাবে অপর্যাপ্ত। সরকারের পক্ষ উপযুক্ত ও অকাট্য তথ্য প্রমাণ পেশ করতে ব্যর্থ হওয়ায় আদালত অভিযুক্তদের সসম্মানে মুক্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

সিবিআইয়ের মূল অভিযোগ ছিল, এসকেএস ইস্পাত অ্যান্ড পাওয়ার লিমিটেড সংস্থাটি কয়লা খনির বরাদ্দ পেতে সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্র করেছিল। খনি পাওয়ার সুবিধার্থে সম্পত্তি, জমি, বিনিয়োগ এবং প্রয়োজনীয় অনুমোদন সংক্রান্ত একাধিক ভুয়ো তথ্য কেন্দ্রের কয়লা মন্ত্রকের কাছে জমা দেওয়া হয়েছিল। এমনকি এই প্রক্রিয়ায় প্রভাব খাটাতে প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুবোধকান্ত সহায়ের একটি সুপারিশপত্রও সিবিআই আদালতে দাখিল করেছিল।

রায়ের সম্ভাব্য প্রভাব ও আইনি ব্যর্থতা

আদালত সমস্ত সওয়াল-জবাব শেষে পর্যবেক্ষণ দেয় যে, আইপিসির ১২০বি ধারার অধীনে ফৌজদারি ষড়যন্ত্রের অভিযোগ প্রমাণ করার জন্য সিবিআই একটিও প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ প্রমাণ হাজির করতে পারেনি। প্রাক্তন মন্ত্রী বা তাঁর ভাইয়ের লেখা কোনো চিঠি কয়লা মন্ত্রকের ৩৬তম স্ক্রিনিং কমিটির সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করেছিল, এমন দাবির সপক্ষেই কোনো প্রমাণ মেলেনি।

এই রায়ের ফলে কয়লা দুর্নীতির মতো হাই-প্রোফাইল মামলায় সিবিআইয়ের তদন্তের কার্যকারিতা ও প্রস্তুতি নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠে গেল। পর্যাপ্ত তথ্যপ্রমাণ ছাড়া চার্জশিট গঠন করার কারণে আইনি লড়াইয়ে কেন্দ্রীয় সংস্থার এই পরাজয় আগামী দিনে অন্যান্য দুর্নীতি মামলার অগ্রগতি ও সিবিআইয়ের বিশ্বাসযোগ্যতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *