অনুপ্রবেশ ও জনবিন্যাস পরিবর্তন রুখতে কেন্দ্রের মেগা পদক্ষেপ, গঠিত হলো হাই-পাওয়ার্ড ডেমোগ্রাফি কমিটি

দেশজুড়ে বেআইনি অনুপ্রবেশ (Illegal Immigration) এবং এর ফলে বিভিন্ন অঞ্চলের জনবিন্যাসে বা ডেমোগ্রাফিতে যে অস্বাভাবিক পরিবর্তন (Unnatural Demographic Change) ঘটছে, তা খতিয়ে দেখতে এবার একটি অত্যন্ত শক্তিশালী উচ্চস্তরীয় কমিটি গঠন করল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক। ‘হাই-পাওয়ার্ড ডেমোগ্রাফি মিশন’ (High-Powered Demography Mission)-এর আওতায় এই বিশেষ কমিটি দেশজুড়ে জনসংখ্যার ভারসাম্যহীনতা খতিয়ে দেখবে এবং তা মোকাবিলার স্থায়ী উপায় জানাবে।
উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ২০১৫ সালের ১৫ আগস্ট লালকেল্লা থেকে এই মিশনের ঘোষণা করেছিলেন এবং পরবর্তীতে ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৫-এ কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা এতে অনুমোদন দেয়। এবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের তরফ থেকে কমিটির রূপরেখা ও সদস্যদের নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হলো।
কমিটির সদস্য এবং সময়সীমা
অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি প্রকাশ প্রভাকর নাভলেকরের নেতৃত্বে গঠিত এই উচ্চস্তরীয় কমিটিতে দেশের একাধিক ক্ষেত্রের শীর্ষ বিশেষজ্ঞ ও প্রাক্তন আমলাদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে:
- চেয়ারম্যান: অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি প্রকাশ প্রভাকর নাভলেকর।
- সদস্য: জনগণনা কমিশনার তথা প্রাক্তন আইএএস (IAS) অফিসার দুর্গাশঙ্কর মিশ্র।
- সদস্য: প্রাক্তন আইপিএস (IPS) অফিসার বালাজি শ্রীবাস্তব।
- সদস্য: বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ শমিকা রবি।
- সদস্য সচিব: কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের যৌথ সচিব (Foreigners-I)।
রিপোর্ট জমার সময়সীমা: এই কমিটিকে আগামী ১ বছরের মধ্যে তাদের চূড়ান্ত পর্যালোচনা রিপোর্ট সরকারের কাছে জমা দিতে হবে। তবে বিশেষ প্রয়োজনে কমিটির মেয়াদ আরও ৬ মাস বাড়ানো যেতে পারে।
“জনবিন্যাসের পরিবর্তন দেশের সার্বভৌমত্বের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ” — অমিত শাহ
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এই কমিটি গঠনের উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করতে গিয়ে সাফ জানিয়েছেন, দেশে হওয়া এই ‘অস্বাভাবিক জনবিন্যাস পরিবর্তন’ ভারতের সার্বভৌমত্ব, জাতীয় নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা এবং সামাজিক কাঠামোর জন্য এক মারাত্মক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। তিনি জানান, এই কমিটি বেআইনি অনুপ্রবেশ, বিভিন্ন অঞ্চলের অস্বাভাবিক বসতি স্থাপন এবং ধর্মীয়-সামাজিক গোষ্ঠীগুলোর জনসংখ্যার পরিবর্তনের হারের ওপর একটি অত্যন্ত নিখুঁত ও গভীর বৈজ্ঞানিক মূল্যায়ন (Scientific Evaluation) করবে।
কীভাবে কাজ করবে এই হাই-পাওয়ার্ড কমিটি?
অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করা থেকে শুরু করে সীমান্ত সুরক্ষা মজবুত করার জন্য এই কমিটি মূলত নিম্নলিখিত বিষয়গুলোর ওপর কাজ করবে:
- কারণ অনুসন্ধান: ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে বেআইনি অনুপ্রবেশের পেছনে থাকা অর্থনৈতিক সুযোগ, সীমান্ত পারের অবৈধ গতিবিধি এবং সামাজিক-পরিবেশগত কারণগুলোর চুলচেরা বিশ্লেষণ করা হবে।
- আইনি পরিকাঠামো গঠন: বেআইনি অনুপ্রবেশকারীদের সঠিক সনাক্তকরণ, তাদের ডিটেনশন বা আটক করা এবং নিজস্ব দেশে ফেরত পাঠানোর (Deportation) জন্য একটি স্থায়ী ও নিশ্ছিদ্র আইনি ব্যবস্থা তৈরি করার সুপারিশ করবে এই কমিটি।
- প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার: দেশের সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, নাগরিকদের পরিচয় যাচাইকরণ ব্যবস্থা (Identity Systems) এবং জনসংখ্যা স্থিতিশীল করার জন্য একটি শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক পরিকাঠামো গড়ে তোলার বিষয়ে সরকারকে পরামর্শ দেবে।
- কেন্দ্র-রাজ্য সমন্বয়: অবৈধ অভিবাসন ঠেকাতে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারগুলোর মধ্যে কীভাবে আরও উন্নত সমন্বয় সাধন করা যায়, তার একটি সুনির্দিষ্ট রণকৌশল তৈরি করা হবে।
এক ঝলকে
- অনুপ্রবেশ ও জনবিন্যাস পরিবর্তন রুখতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক গঠন করল ‘হাই-পাওয়ার্ড ডেমোগ্রাফি কমিটি’।
- কমিটির চেয়ারম্যান করা হয়েছে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি প্রকাশ প্রভাকর নাভলেকর-কে।
- কমিটিকে আগামী ১ বছরের মধ্যে তদন্তের সম্পূর্ণ রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
- অনুপ্রবেশকারীদের সনাক্তকরণ, আটক ও বিতাড়নের জন্য একটি স্থায়ী আইনি ফ্রেমওয়ার্ক তৈরি করাই এই কমিটির মূল লক্ষ্য।