মামলার নথি ছাড়াই জামিন পেলেন স্বপন কামিল্যার রহস্যমৃত্যুতে অভিযুক্ত অপসারিত বিডিও প্রশান্ত বর্মন!

স্বপন কামিল্যার রহস্যমৃত্যুর ঘটনায় মূল অভিযুক্ত তথা অপসারিত বিডিও প্রশান্ত বর্মনের জামিনকে ঘিরে রাজ্য রাজনীতি ও প্রশাসনিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। আদালতে সময়মতো খুনের মামলার প্রয়োজনীয় নথি জমা না পড়া এবং তদন্তকারী আধিকারিকের অনুপস্থিতির সুযোগে মাত্র এক হাজার টাকার বন্ডে জামিন পেয়ে বাড়ি ফিরে গেলেন তিনি। মঙ্গলবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ম্যাজিস্ট্রেট অপেক্ষা করার পর অভিযুক্তকে হাজির করা হলেও তদন্ত সংক্রান্ত কোনো কাগজপত্র পেশ করতে পারেনি পুলিশ, যার জেরে এই বিতর্কিত জামিন মঞ্জুর হয়।
নতুন দুর্ঘটনা ও গ্রেফতারি এড়ানোর নাটক
সোমবার রাতে নিউটাউনের ইকো পার্ক থানা এলাকায় প্রশান্ত বর্মনের গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে এক পথচারীকে ধাক্কা মারলে নতুন করে উত্তেজনা ছড়ায়। দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলে পুলিশ পৌঁছে পথসুরক্ষা বিধি ভঙ্গের অভিযোগে তাঁকে আটক করে। এই ঘটনার পর সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, ক্ষতিগ্রস্ত গাড়ির চালকের আসনে বসে থাকা প্রশান্ত বর্মন ক্যামেরা দেখে মুখ লুকানোর চেষ্টা করছেন এবং তাঁর বিরুদ্ধে ঘটনাস্থলে দুর্ব্যবহার ও হুমকির অভিযোগও উঠেছে।
স্বপন কামিল্যার মৃত্যু ও প্রশাসনিক বিতর্ক
গত বছরের ২৯ অক্টোবর নিউটাউনের যাত্রাগাছির খালপাড় থেকে স্বপন কামিল্যার দেহ উদ্ধারের পর মৃতের পরিবার সরাসরি তৎকালীন বিডিও প্রশান্ত বর্মনের বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ তোলে, যার জেরে তাঁকে পদ থেকে অপসারিত করা হয়। কলকাতা হাইকোর্ট তাঁর আগাম জামিন খারিজ করে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিলেও তা অমান্য করায় বিধাননগর আদালত তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছিল। এই আবহে আদালতে পুলিশের চরম গাফিলতি এবং সময়মতো খুনের মামলার ডায়েরি বা নথি না পৌঁছনোয় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠে গেছে।
এক ঝলকে
- স্বপন কামিল্যার রহস্যমৃত্যু মামলায় অভিযুক্ত অপসারিত বিডিও প্রশান্ত বর্মন মাত্র ১,০০০ টাকার বন্ডে জামিন পেলেন।
- আদালতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পরও পুলিশ খুনের মামলার ডায়েরি বা প্রয়োজনীয় নথি জমা দিতে না পারায় ম্যাজিস্ট্রেট জামিন মঞ্জুর করেন।
- সোমবার রাতে নিউটাউনে গাড়ি দুর্ঘটনা ও পথচারীকে ধাক্কা মারার অভিযোগে ইকো পার্ক থানার পুলিশ তাঁকে আটক করেছিল।
- হাইকোর্ট আগাম জামিন খারিজ করার এবং নিম্ন আদালত গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করার পরও পুলিশের এই গাফিলতি নিয়ে তৈরি হয়েছে তীব্র বিতর্ক।