নজিরবিহীন ছবি! নিশীথের সহযোগিতায় কথা বলার সুযোগ পেলেন ১৩ তৃণমূল বিধায়ক

নজিরবিহীন ছবি! নিশীথের সহযোগিতায় কথা বলার সুযোগ পেলেন ১৩ তৃণমূল বিধায়ক

দক্ষিণবঙ্গের পর এবার উত্তরবঙ্গ। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর পর উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিকের প্রশাসনিক বৈঠকেও দেখা গেল রাজ্যের ভিন্ন রাজনৈতিক সমীকরণ। মঙ্গলবার উত্তরকন্যায় আয়োজিত এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে আমন্ত্রিত বিরোধী দলের বিধায়করা কেবল হাজিরই হলেন না, বরং প্রশাসনের সঙ্গে সহযোগিতার বার্তা দিলেন। উত্তরবঙ্গের ৮টি জেলার মোট ১৪ জন তৃণমূল বিধায়কের মধ্যে ১৩ জনই এই বৈঠকে অংশ নেন, যা বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

বন্যা ও দুর্যোগ মোকাবিলায় সমন্বিত উদ্যোগ

মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটিই ছিল নিশীথ প্রামাণিকের প্রথম প্রশাসনিক বৈঠক। বর্ষা আসার আগেই উত্তরবঙ্গের বন্যা পরিস্থিতি, মালদার নদী ভাঙন, পাহাড়ের ধস এবং সিকিমের বন্যাসহ তিস্তা নদীর সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এই দুর্যোগ মোকাবিলায় সেচ দপ্তর, উত্তরবঙ্গের ৮ জেলার জেলাশাসক, সাংসদ, বিধায়কদের পাশাপাশি বিএসএফ, এসএসবি এবং এনডিআরএফ-এর প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে উপস্থিত বিরোধী দলের বিধায়কদের নিজস্ব মতামত প্রকাশের পূর্ণ সুযোগ দেওয়া হয় এবং তাঁদের পরামর্শকেও প্রশাসন গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করেছে।

কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব

প্রশাসনিক এই সমন্বয়ের মূল কারণ হলো বর্ষার মরশুমে উত্তরবঙ্গের ভৌগোলিক ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের ভয়াবহতা হ্রাস করা। প্রতি বছর ভুটানের জল ডুয়ার্সে প্রবেশ করে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি করে। এই সমস্যা সমাধানে ইন্দো-ভুটান রিভার কমিশন নিয়ে কেন্দ্রের সঙ্গে আলোচনা এবং ঝাড়খণ্ড, বিহার ও বাংলার সমন্বয়ে নতুন রিভার কমিশন গড়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

রাজনীতিকে দূরে সরিয়ে রেখে তৃণমূল বিধায়কদের এই যোগদান এবং সরকারের ইতিবাচক মনোভাবের ফলে রাজ্য প্রশাসনে একটি সুস্থ গণতান্ত্রিক পরিবেশ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। দলীয় ভেদাভেদ ভুলে বিধায়কদের এই সহযোগিতার ফলে প্রতিটি জেলায় জেলাশাসকদের নেতৃত্বে কন্ট্রোল রুম খোলা, নদীপাড়ের মানুষদের নিরাপদ স্থানে সরানো এবং উদ্ধারকাজের প্রস্তুতি দ্রুত ও কার্যকরভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *