অনুপ্রবেশ রুখতে উত্তরবঙ্গে এবার বড় পদক্ষেপ, তৈরি হচ্ছে একের পর এক হোল্ডিং সেন্টার!

বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী এবং রোহিঙ্গা সন্দেহে ধৃতদের সাময়িকভাবে আটকে রাখার জন্য উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিতে জোরকদমে ‘হোল্ডিং সেন্টার’ তৈরির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। রাজ্য সরকারের নয়া নীতি ‘ডিটেক্ট, ডিলিট ও ডিপোর্ট’ বাস্তবায়নে নবান্নের নির্দেশ মেলা মাত্রই জেলা প্রশাসনগুলি উপযুক্ত জায়গার সন্ধান শুরু করেছে। এই কেন্দ্রগুলিতে সন্দেহভাজনদের সর্বোচ্চ ৩০ দিন পর্যন্ত আটকে রাখা যাবে। উত্তরবঙ্গের মধ্যে মালদহ জেলায় ইতিমধ্যেই প্রথম হোল্ডিং সেন্টারটি চালু করা হয়েছে।
কেন্দ্রে রয়েছে দিল্লির নির্দেশিকা ও রাজ্যের নীতি
প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে, হোল্ডিং সেন্টারের এই ধারণাটি সম্পূর্ণ নতুন নয়। ২০২৫ সালে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের বিদেশ মন্ত্রক থেকে রোহিঙ্গা ও বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের বিষয়ে একটি বিশেষ বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছিল, যেখানে এই ধরনের কেন্দ্র গড়ে তোলার নির্দেশ ছিল। এতদিন রাজ্যে এটি কার্যকর না হলেও, ক্ষমতার পালাবদলের পর বর্তমান রাজ্য সরকার এই নীতি বাস্তবায়নে সক্রিয় হয়েছে। নবান্নের নির্দেশিকা অনুযায়ী, অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিতকরণ, তালিকা থেকে বাদ দেওয়া এবং নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়াকে দ্রুত করতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এখানে কেবল নতুন ধৃতদেরই নয়, পূর্বে বন্দি থাকা সন্দেহভাজনদেরও রাখার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
জায়গা চিহ্নিতকরণে তৎপর জেলা প্রশাসন
উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিতে এখন যুদ্ধকালীন তৎপরতায় নিরাপদ সরকারি ভবন বা জমি খোঁজার কাজ চলছে। দক্ষিণ দিনাজপুর ও আলিপুরদুয়ার জেলা প্রশাসন উপযুক্ত পরিকাঠামো খতিয়ে দেখছে। কোচবিহার ও উত্তর দিনাজপুরেও শুরু হয়েছে জমি পরিদর্শন। বিশেষ করে উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জ এবং ইসলামপুর মহকুমায় প্রথম পর্বে দু’টি হোল্ডিং সেন্টার তৈরি হতে চলেছে, যার জমি চিহ্নিতকরণের কাজ চারদিনের মধ্যে চূড়ান্ত হবে বলে জানা গেছে। এই কাজের জন্য পরিত্যক্ত স্কুল বাড়ি, সমাজকল্যাণমূলক দপ্তরের ভবন কিংবা পূর্বের সেফ হোমগুলির পরিকাঠামোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। মালদহ জেলার ইংলিশ বাজারের চন্দন পার্ক এলাকায় ইতিমধ্যেই এমন একটি কেন্দ্র সফলভাবে কার্যকর করা হয়েছে।
কৌশলগত অবস্থান ও সীমান্ত সুরক্ষায় প্রভাব
ভৌগোলিক দিক থেকে উত্তরবঙ্গের শিলিগুড়ি করিডোর অত্যন্ত স্পর্শকাতর হওয়ায় এই অঞ্চলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে বাড়তি নজর দেওয়া হচ্ছে। সেই কারণে ডাবগ্রাম ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক সংলগ্ন এলাকা অথবা উত্তরকন্যার কাছাকাছি কোনো উপযুক্ত জায়গার খোঁজ চলছে। এছাড়া জলপাইগুড়ির সাউথ বেরুবাড়ি এবং ছিটমহল এলাকাগুলিতে আগে থেকেই আটক শিবির বা কেন্দ্র থাকার কারণে সেই অভিজ্ঞতাকেও কাজে লাগানো হচ্ছে। ২০০৮-২০০৯ সালে আসামে প্রথম এই ধরনের শিবির গড়ে উঠেছিল। এবার পশ্চিমবঙ্গের সীমান্ত জেলাগুলিতে এই পরিকাঠামো গড়ে ওঠার ফলে আন্তর্জাতিক সীমান্ত পেরিয়ে অবৈধ অনুপ্রবেশের প্রবণতা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আসবে এবং অনুপ্রবেশকারীদের দ্রুত বহিষ্কারের আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা সহজ হবে বলে মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহল।