ওবিসিদের জন্য চাকরিতে ৭% সংরক্ষণ, কেন পুরনো বিজ্ঞপ্তি বাতিল করল রাজ্য?

সরকারি চাকরিতে নিয়োগ প্রক্রিয়াকে আরও গতিশীল ও স্বচ্ছ করতে বড়সড় পদক্ষেপ নিল রাজ্য সরকার। ওবিসি (অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণি) সংরক্ষণ নিয়ে আগের সরকারের জারি করা পুরনো বিজ্ঞপ্তি বাতিল করে সম্পূর্ণ নতুন নির্দেশিকা প্রকাশ করা হয়েছে। শ্রম দপ্তরের তরফে জারি করা এই নয়া বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, এখন থেকে রাজ্যের সরকারি চাকরিতে ওবিসি প্রার্থীদের জন্য মোট ৭ শতাংশ সংরক্ষণ কার্যকর থাকবে। এই নতুন সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে রাজ্য সরকারি চাকরিতে একটি নতুন ‘১০০ পয়েন্ট রোস্টার’ প্রকাশ করা হয়েছে, যা কলকাতা গেজেটে বিজ্ঞাপিত হয়েছে।
স্বচ্ছতা ও ভারসাম্যের লক্ষ্যে নতুন ১০০ পয়েন্ট রোস্টার
শ্রম দপ্তরের নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, রাজ্যের সমস্ত সরকারি দপ্তর, সরকারি সংস্থা, স্থানীয় স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা এবং সরকারি নিয়ন্ত্রিত প্রতিষ্ঠানে এই নতুন রোস্টার ব্যবস্থা অবিলম্বে কার্যকর হবে। নতুন ১০০ পয়েন্ট রোস্টারের বিন্যাস অনুযায়ী, ১ নম্বর শূন্যপদটি তফসিলি জাতি (এসসি) প্রার্থীদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে। ৩ নম্বর পদটি থাকবে অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল শ্রেণির (ইডাব্লুএস) জন্য এবং ৪ নম্বর পদটি তফসিলি উপজাতি (এসটি) প্রার্থীদের জন্য নির্দিষ্ট করা হয়েছে।
এ ছাড়া, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য এই রোস্টারে ৪টি পদ সংরক্ষিত রাখা হয়েছে। রাজ্যের কৃতী ক্রীড়াবিদদের উৎসাহিত করতে ৩৩ এবং ৬৬ নম্বর পয়েন্ট দুটি তাদের জন্য বরাদ্দ থাকবে। গ্রুপ ‘সি’ ও গ্রুপ ‘ডি’ পদের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট রোস্টার পয়েন্টে প্রাক্তন সেনাকর্মীদের নিয়োগ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। তবে সরকার স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, নতুন রোস্টার চালু হলেও এসসি, এসটি বা ওবিসি সংরক্ষণের বিদ্যমান সামগ্রিক শতাংশ কোনোভাবেই হ্রাস করা যাবে না।
পরিবর্তনের কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব
রাজ্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পুরনো নিয়োগ বিধির জটিলতা দূর করা এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ায় আরও বেশি ভারসাম্য ও স্বচ্ছতা বজায় রাখাই এই পরিবর্তনের প্রধান কারণ। একটি সুনির্দিষ্ট ও নিয়মতান্ত্রিক রোস্টার ব্যবস্থা চালু হওয়ায় আইনি জটিলতা অনেকটাই কমবে বলে মনে করা হচ্ছে। এর ফলে সরকারি চাকরির নিয়োগ প্রক্রিয়া যেমন ত্বরান্বিত হবে, তেমনই যোগ্য প্রার্থীরা নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে নিজেদের অধিকার পাবেন। যোগ্যতার ভিত্তিতে বিভিন্ন অনগ্রসর ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শ্রেণির মানুষের কাছে সরকারি কর্মসংস্থানের সুযোগ আরও সুনিশ্চিত হবে, যা সামগ্রিকভাবে রাজ্যের প্রশাসনিক স্তরে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।