বিসি রায় বিতর্কের রেশ কাটতে না কাটতেই ফের রোগী কল্যাণ সমিতিতে কুণাল ঘোষ!

বিসি রায় বিতর্কের রেশ কাটতে না কাটতেই ফের রোগী কল্যাণ সমিতিতে কুণাল ঘোষ!

বিসি রায় শিশু হাসপাতালের রোগী কল্যাণ সমিতি ঘিরে তৈরি হওয়া তীব্র বিতর্কের রেশ এখনও কাটেনি। তার মধ্যেই ফের নতুন করে চর্চার কেন্দ্রে চলে এলেন বেলেঘাটার তৃণমূল বিধায়ক তথা দলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ। এবার শ্যামাদাস বৈদ্য শাস্ত্র পীঠ হাসপাতালের রোগী কল্যাণ সমিতির ‘বিশেষ আমন্ত্রিত সদস্য’ হিসেবে তাঁর মনোনীত হওয়ার একটি চিঠি প্রকাশ্যে এসেছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতি এবং প্রশাসনিক মহলে নতুন করে জল্পনা ও বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।

প্রকাশ্যে আসা ওই চিঠিতে দেখা যাচ্ছে, স্বাস্থ্য দপ্তরের অধীনস্থ শ্যামাদাস বৈদ্য শাস্ত্র পীঠ হাসপাতালের তরফ থেকে কুণাল ঘোষকে বিশেষ আমন্ত্রিত সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, হাসপাতালের রোগী কল্যাণ সমিতির আগামী বৈঠক আয়োজনের জন্য বিধায়কের সুবিধাজনক দিন ও সময় জানতে চেয়ে অনুরোধও জানানো হয়েছে।

পুরোনো বিতর্কের পুনরাবৃত্তি ও প্রশাসনিক সমন্বয়হীনতা

কয়েক দিন আগেই বিসি রায় শিশু হাসপাতালের রোগী কল্যাণ সমিতিতে কুণাল ঘোষের অন্তর্ভুক্তি নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে শোরগোল পড়ে গিয়েছিল। সেই সময় খোদ রাজ্যের নারী ও শিশুকল্যাণ মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল দাবি করেছিলেন, সরকারের কাছে কুণাল ঘোষকে মনোনীত করার এমন কোনো তথ্য নেই এবং সরকারিভাবে তাঁর নাম পাঠানোই হয়নি। অন্যদিকে, কুণাল ঘোষ পাল্টা দাবি করেন যে তাঁকে প্রথমে ফোনে জানানো হয় এবং পরে তাঁর বাড়িতে প্রয়োজনীয় নথির প্রতিলিপি পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। সেই বিতর্কের রেশ দানা বাঁধার মাঝেই নতুন এই চিঠি আসায় প্রশাসনিক স্তরের সমন্বয়হীনতা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠে গেল।

রাজনৈতিক গুরুত্ব ও সম্ভাব্য প্রভাব

সাধারণত সরকারি হাসপাতালের পরিষেবা, পরিকাঠামো উন্নয়ন এবং রোগীদের সুবিধার্থে প্রশাসনিক কাজের তদারকি করে এই রোগী কল্যাণ সমিতি। হাসপাতালের সার্বিক কাজকর্মে জনপ্রতিনিধিদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতেই এই ধরনের কমিটিতে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের রাখা হয়। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, শাসকদলের অন্যতম পরিচিত ও সক্রিয় মুখ হওয়ায় স্বাস্থ্য সংক্রান্ত কমিটিতে কুণাল ঘোষের নাম রাখা রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ।

তবে পরপর দুটি হাসপাতালের কমিটিতে তাঁর সদস্যপদ নিয়ে যেভাবে সরকারি অবস্থান এবং প্রকাশ্যে আসা নথির মধ্যে অমিল ধরা পড়ছে, তাতে প্রশাসনিক স্তরে বিভ্রান্তি আরও বাড়ছে। এই নতুন চিঠি প্রকাশ্যে আসার পর এখনও পর্যন্ত স্বাস্থ্য দপ্তর কিংবা কুণাল ঘোষের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে ওয়াকিবহাল মহলের মতে, সরকারের অভ্যন্তরীণ এই মতপার্থক্য আগামী দিনে রাজনৈতিক চাপানউতোর আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *