আবারও পণের বলি তরুণী! লখনউতে গৃহবধূর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধারে উসকে গেল ত্বিষা শর্মা কাণ্ডের স্মৃতি

আবারও পণের বলি তরুণী! লখনউতে গৃহবধূর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধারে উসকে গেল ত্বিষা শর্মা কাণ্ডের স্মৃতি

বিয়ের মাত্র ছয় মাসের মাথায় শেষ হয়ে গেল একটি তরতাজা প্রাণ। উত্তরপ্রদেশের লখনউয়ের ঠাকুরগঞ্জ এলাকায় শ্বশুরবাড়ি থেকে শ্বেতা সিং নামের এক তরুণীর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়েছে। পণের দাবিতে তাঁর ওপর লাগাতার মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন চালানো হতো বলে অভিযোগ করেছে মৃতার পরিবার। এই ঘটনাটি সম্প্রতি মধ্যপ্রদেশে মডেল-অভিনেত্রী ত্বিষা শর্মার রহস্যমৃত্যুর স্মৃতিকে নতুন করে উসকে দিয়েছে।

লোমহর্ষক এই ঘটনার পর থেকে মৃতার স্বামীসহ শ্বশুরবাড়ির ছয় সদস্য পলাতক রয়েছেন। পুলিশ তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে তল্লাশি শুরু করেছে।

পণের লোভ ও লাগাতার মানসিক নির্যাতন

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ২২ নভেম্বর ভূপেন্দ্র সিং ওরফে শুভম সিংয়ের সঙ্গে বিয়ে হয়েছিল শ্বেতার। অভিযোগ, বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই একটি চারচাকা গাড়ির দাবিতে শ্বেতার ওপর চাপ সৃষ্টি করতে শুরু করে তাঁর শ্বশুরবাড়ির লোকজন। শ্বেতার বাবা উমেশ কুমার সিং জানিয়েছেন, গাড়ি না পেয়ে প্রতিদিন তাঁর মেয়েকে অপমান করতেন স্বামী ভূপেন্দ্র। এমনকি শাশুড়ি ও ননদ মিলে নানারকম কটাক্ষ ও মানসিক নির্যাতন চালাতেন। এই লাগাতার অত্যাচারের কারণেই মানসিকভাবে সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছিলেন শ্বেতা।

সোমবার ঠাকুরগঞ্জের বাড়ি থেকে শ্বেতার ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করে শ্বশুরবাড়ির লোকজনই তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যায়, যেখানে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। তবে মৃতার পরিবারের দাবি, এটি সাধারণ আত্মহত্যা নয়। তাঁদের মেয়েকে খুন করে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।

তদন্তে পুলিশ ও পলাতক অভিযুক্তদের খোঁজ

ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্তরা বাড়ি ছেড়ে পালিয়েছে। মৃতার বাবার অভিযোগের ভিত্তিতে লখনউয়ের ঠাকুরগঞ্জ থানা পুলিশ শ্বেতার স্বামী ভূপেন্দ্র, শ্বশুর, শাশুড়ি, দেবর, জা ও ননদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৮০ নম্বর ধারা (পণজনিত মৃত্যু), ৮৫ নম্বর ধারা এবং পণনিষেধ আইনের অধীনে মামলা দায়ের করেছে।

ঠাকুরগঞ্জ থানার অফিসার ওমবীর সিং চৌহান জানিয়েছেন, ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে ময়নাতদন্তের রিপোর্টের অপেক্ষা করা হচ্ছে। এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড নাকি মানসিক নির্যাতনের জেরে আত্মহত্যার ঘটনা, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের জন্য ইতিমধ্যেই তল্লাশি অভিযান শুরু হয়েছে।

দেশজুড়ে নারীদের নিরাপত্তা ও পণের মতো সামাজিক ব্যাধির প্রভাব কতটা মারাত্মক রূপ নিতে পারে, লখনউয়ের এই ঘটনা আবারও তা প্রমাণ করল। ত্বিষা শর্মা কাণ্ডের রেশ কাটতে না কাটতেই এই পুনরাবৃত্তি সমাজে নারীদের সুরক্ষাহীনতাকে আরও একবার বড়সড় প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *