ডায়মন্ড হারবারে তৃণমূলের বড় ভাঙন, ১০ কাউন্সিলরের পদত্যাগে ভেঙে গেল পুরবোর্ড!

সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিজের গড় হিসেবে পরিচিত ডায়মন্ড হারবারে এক বড়সড় রাজনৈতিক উলটপুরাণ ঘটে গেল। ১৬ জন কাউন্সিলরের মধ্যে ১০ জন একযোগে পদত্যাগ করায় অবশেষে ভেঙে পড়ল ডায়মন্ড হারবার পুরবোর্ড। সম্প্রতি লোকসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে শাসকদলের অন্দরে টালমাটাল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। এবার সেই আঁচ এসে পড়ল খোদ অভিষেকের সংসদীয় এলাকায়, যা রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল।
জানা গেছে, পুরসভার মোট ১৬ জন কাউন্সিলরের মধ্যে ৮ জন সশরীরে চেয়ারম্যানের কাছে গিয়ে তাঁদের পদত্যাগপত্র জমা দেন। বাকি ২ জন মহিলা কাউন্সিলর অনলাইনে নিজেদের পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছেন। ১০ জন কাউন্সিলরের এই আকস্মিক ইস্তফার জেরে ম্যাজিক ফিগার হারিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ভেঙে যায় পুরবোর্ড। এক সময়ের অভেদ্য দুর্গ হিসেবে পরিচিত এই অঞ্চলে বিরোধীদের শক্তিবৃদ্ধি এবং শাসকদলের এই ভাঙন আসন্ন পুরভোটের সমীকরণকে সম্পূর্ণ বদলে দিতে পারে।
পরিষেবা ব্যাহত হওয়ার অভিযোগ স্থানীয়দের
পুরবোর্ড ভেঙে যাওয়ার পরদিনই, অর্থাৎ মঙ্গলবার সকাল থেকে ডায়মন্ড হারবার শহরজুড়ে নাগরিক পরিষেবা ব্যাহত হওয়ার অভিযোগ উঠতে শুরু করেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের দাবি, রাস্তাঘাট সাফাই থেকে শুরু করে পুরসভার অন্যান্য জরুরি নাগরিক পরিষেবা একপ্রকার ঢিমেতালে চলছে। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনও নতুন কোনও অন্তর্বর্তীকালীন পদক্ষেপ বা প্রশাসক নিয়োগ না করায়, বিদায়ী চেয়ারম্যান প্রণব দাস নিজেই আপাতত কাজকর্ম দেখভাল করছেন। যদিও পরিষেবা ব্যাহত হওয়ার খবর অস্বীকার করে তিনি জানিয়েছেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং কাজ সচল রাখার চেষ্টা চলছে।
রাজনৈতিক কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ভাঙনের সূত্রপাত সাম্প্রতিক লোকসভা নির্বাচনের ফলাফলের পর থেকেই। ডায়মন্ড হারবার লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত ফলতা বিধানসভা এলাকায় বিজেপি লক্ষাধিক ভোটে লিড পাওয়ায় এলাকার রাজনৈতিক সমীকরণে বড়সড় বদল আসে। এর পাশাপাশি রাজ্যজুড়ে তোলাবাজি সহ একাধিক অভিযোগে বিভিন্ন পুরসভার কাউন্সিলরদের গ্রেফতারি ও অভ্যন্তরীণ অসন্তোষ এই ভাঙনকে আরও ত্বরান্বিত করেছে।
পুরবোর্ড ভেঙে যাওয়ার পর বিদায়ী চেয়ারম্যান প্রণব দাস জানান, পুরসভাতে সরকারি প্রশাসক বসানো হলেও মানুষের পরিষেবার কাজ ব্যাহত হবে না বলেই তিনি আশা করেন। অন্যদিকে, পুরো বিষয়টি প্রশাসন এবং সরকারের নজরে রয়েছে এবং দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আশ্বস্ত করেছেন বিজেপি নেতা দীপক হালদার। এই ঘটনার ফলে আগামী দিনে ডায়মন্ড হারবারের স্থানীয় রাজনীতিতে বিরোধীদের চাপ আরও বাড়বে বলেই মনে করা হচ্ছে।