স্কুল ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের কাছে মিলবে না মদের দোকানের লাইসেন্স, কড়া বার্তা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর থেকেই প্রশাসনিক স্তরে একের পর এক কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে। বেআইনি নির্মাণ ভাঙা এবং দুর্নীতি ও তোলাবাজির অভিযোগে কাউন্সিলরদের গ্রেপ্তারের পর এবার মদের দোকানের লাইসেন্স নিয়ে বড় ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মঙ্গলবার তিন জেলাকে নিয়ে আয়োজিত একটি প্রশাসনিক বৈঠকে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, স্কুল, কলেজ এবং মন্দিরের এক কিলোমিটারের মধ্যে নতুন করে কোনো মদের দোকানের লাইসেন্স দেওয়া যাবে না। পূর্বতন সরকারের আমলের রীতির বাইরে গিয়ে এবার সব রাজনৈতিক দলকে নিয়ে গঠনমূলক আলোচনার মাধ্যমে রাজ্য পরিচালনার বার্তা দিয়েছেন তিনি।
আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার বার্তা
প্রশাসনিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী কেবল মদের দোকান নিয়েই নয়, রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও কড়া অবস্থান ব্যক্ত করেন। কালীগঞ্জের মৃত শিশু তামান্নার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি আশ্বস্ত করেন যে, এই ঘটনায় ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে। রাজ্যে কোনো রাজনৈতিক প্রভাব খাটানো চলবে না উল্লেখ করে তিনি জানান, বর্তমান সরকার ‘শাসকের আইন’ নয়, বরং ‘আইনের शासन’ প্রতিষ্ঠায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ভোটের সময় রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা থাকলেও বছরের বাকি সময়টা যেন সব পক্ষ মিলেমিশে গঠনমূলক কাজ করে, সেই আহ্বানও জানান তিনি।
কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব
এই সিদ্ধান্তের মূল কারণ হিসেবে সামাজিক অবক্ষয় রোধ এবং শিক্ষা ও ধর্মীয় স্থানের পবিত্রতা রক্ষা করার বিষয়টিকে চিহ্নিত করা হচ্ছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও উপাসনালয়ের কাছাকাছি মদের দোকান থাকায় যুবসমাজ ও শিক্ষার্থীদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছিল বলে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন মহলে ক্ষোভ ছিল। সরকারের এই নতুন বিধিনিষেধের ফলে আগামী দিনে মদের যত্রতত্র বিস্তার অনেকটাই নিয়ন্ত্রিত হবে। তবে এই কড়াকড়ির কারণে আবগারি দপ্তরের রাজস্ব আদায়ে কোনো প্রভাব পড়ে কি না এবং বিদ্যমান দোকানগুলোর ক্ষেত্রে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।