তৃণমূলে ‘লাস্ট বেঞ্চারদের’ বিদ্রোহ, শুভেন্দুর উপস্থিতিতে স্পিকারের ঘরে দুই তৃণমূল বিধায়ক

পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক পালাবদলের পর রাজ্যের শাসক শিবিরে ভাঙনের জল্পনা এবার আরও তীব্র হলো। বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর উপস্থিতিতে স্পিকার রথীন্দ্র বসুর ঘরে তৃণমূলের দুই বিধায়ক, এন্টালির সন্দীপন সাহা এবং উলুবেড়িয়া পূর্বের ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের আকস্মিক উপস্থিতি রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে নতুন আলোড়ন তৈরি করেছে। দলের অন্দরে দীর্ঘদিন ধরে কোণঠাসা এই দুই বিধায়কের বিরোধী শিবিরের প্রতি এই নরম মনোভাবকে কেন্দ্র করে এখন দলবদলের সুপ্ত ইঙ্গিত দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
নেতৃত্বের প্রতি ক্ষোভ ও ‘লাস্ট বেঞ্চার’ তত্ত্ব
স্পিকারের ঘর থেকে বেরিয়ে দুই তৃণমূল বিধায়কই বর্তমান দলীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধে একপ্রকার ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। এন্টালির বিধায়ক সন্দীপন সাহা সরাসরি দলের শীর্ষ নেতৃত্বের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে জানান, দল তাঁদের মতো নিচুতলার কর্মীদের কোনো নিরাপত্তা দিতে পারছে না এবং ভবিষ্যতের কোনো সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনাও মিলছে না। অন্যদিকে, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেকে এবং সন্দীপনকে দলের ‘লাস্ট বেঞ্চার’ বা পিছনের সারির কর্মী হিসেবে অভিহিত করে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। বিগত পনেরো বছরের ধারাবাহিকতা ও কাজের সমালোচনা করে শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারের বিরোধীদের প্রতি ইতিবাচক মনোভাবের প্রকাশ্য প্রশংসা করেন তিনি।
রাজনৈতিক প্রভাব ও পরিবর্তনের ইঙ্গিত
দুই বিধায়কই বিষয়টিকে স্রেফ ‘সৌজন্য সাক্ষাৎ’ বলে বিতর্ক ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করলেও রাজনৈতিক পরিস্থিতি ভিন্ন ইঙ্গিত দিচ্ছে। এর আগেও দিল্লিতে বঙ্গভবনে শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাক্ষাৎ হয়েছিল। ফলে পর পর এই ধরনের ঘটনা কেবল আকস্মিক বা সৌজন্যমূলক বলে এড়িয়ে যাওয়া যাচ্ছে না। তৃণমূলের অন্দরে সমন্বয়ের অভাব এবং কর্মীদের অসন্তোষের কারণেই এই ধরনের দূরত্বের সৃষ্টি হচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে। দুই প্রভাবশালী বিধায়কের এই অবস্থান আগামী দিনে বিধানসভার অন্দরে সমীকরণ বদলে দিতে পারে এবং এর প্রভাব নিচুতলার দলীয় সংগঠনেও পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।