নন্দীগ্রামে লড়তে নারাজ পবিত্র থেকে সুফিয়ান, প্রার্থী খুঁজতে গিয়ে কালঘাম ছুটছে তৃণমূলের!

নন্দীগ্রামে লড়তে নারাজ পবিত্র থেকে সুফিয়ান, প্রার্থী খুঁজতে গিয়ে কালঘাম ছুটছে তৃণমূলের!

বাংলার রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর পূর্ব মেদিনীপুরের হাইভোল্টেজ কেন্দ্র নন্দীগ্রামকে ঘিরে নতুন করে শোরগোল শুরু হয়েছে। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে জিতে রাজ্যের মসনদে বিজেপি বসার পর থেকেই ব্যাকফুটে চলে গিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। বিশেষ করে ফলতার পুনর্নির্বাচনে চতুর্থ স্থানে নেমে আসা এবং জামানত বাজেয়াপ্ত হওয়ার ধাক্কায় দলটির অন্দরে তীব্র ভাঙন ধরেছে। এই পরিস্থিতিতে নন্দীগ্রাম বিধানসভা উপনির্বাচনে লড়াই করার জন্য ঘাসফুল শিবিরের কোনো নেতাই আর রাজি হচ্ছেন না। ফলে উপনির্বাচন ঘোষণার আগেই প্রার্থী বাছাই নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছে রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল তৃণমূল।

নেতাদের অনীহা ও শুভেন্দু-বন্দনা

নন্দীগ্রাম আসনটি ফাঁকা হয়েছে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ভবানীপুরের বিধায়ক পদ রেখে এই কেন্দ্রের বিধায়ক পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ায়। বিধানসভা ভোটে এই কেন্দ্রে প্রায় ১০ হাজার ভোটে জয়ী হয়েছিলেন তিনি। সাংবিধানিক নিয়ম মেনে সেখানে উপনির্বাচন হতে চলায় প্রার্থী খোঁজার তৎপরতা শুরু করে তৃণমূল নেতৃত্ব। তবে বিধানসভা নির্বাচনে হারের পর নন্দীগ্রামের তৃণমূল নেতা পবিত্র কর সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, তিনি আর প্রার্থী হতে নারাজ। পবিত্র কর বেঁকে বসার পর তৃণমূলের রাজ্য স্তরের নেতারা তড়িঘড়ি দ্বারস্থ হয়েছিলেন দলের পুরোনো মুখ শেখ সুফিয়ানের। কিন্তু সুফিয়ানও প্রার্থী হওয়ার প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন। উল্টো একদা কট্টর বিরোধী হিসেবে পরিচিত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ভূয়সী প্রশংসা শোনা গিয়েছে তাঁর মুখে। শুভেন্দুর সাংগঠনিক ক্ষমতা ও সফল মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার যোগ্যতার তারিফ করে সুফিয়ান প্রকারান্তরে দলের অন্দরের ক্ষোভই প্রকাশ করেছেন।

পরাজয়ের আতঙ্ক ও রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক ফলতা পুনর্নির্বাচনে তৃণমূলের শোচনীয় পরাজয় ও জামানত বাজেয়াপ্ত হওয়ার ঘটনাটি নন্দীগ্রামের নেতাদের মনে গভীর আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে। নিশ্চিত পরাজয় জেনে কোনো প্রথম সারির নেতাই এই মুহূর্তে বলির পাঁঠা হতে রাজি নন। একই সাথে, সুফিয়ানের মতো দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত সৈনিকদের অভিযোগ— অধিকারীদের বিরুদ্ধে মুখ খোলার জন্য তাঁদের ব্যবহার করা হলেও পরে দল আর কোনো খোঁজ রাখেনি। একদিকে হারের ভয় এবং অন্যদিকে ক্ষোভ— এই দুইয়ের যোগফলেই নন্দীগ্রামে প্রার্থী সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। সুফিয়ান জানিয়েছেন, তিনি সপরিবারে রাজনীতি থেকে দূরে সরতে চান এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বুঝিয়েই এই সিদ্ধান্ত নেবেন। সব মিলিয়ে, নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে তৃণমূলের প্রার্থী পাওয়ার রাস্তা যে অত্যন্ত কঠিন, তা স্পষ্ট।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *