বাম আমলের মডেলে শিক্ষাদপ্তরে জোড়া মন্ত্রী, শুভেন্দু সরকারের ক্যাবিনেট সম্প্রসারণের তালিকা প্রস্তুত

রাজ্যে পালাবদলের পর এবার মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণের পথে হাঁটছে শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন নতুন বিজেপি সরকার। কাজের গতি বাড়াতে এবং প্রশাসনিক দক্ষতা সুনিশ্চিত করতে এবার বাম আমলের কাঠামোয় ফেরার ইঙ্গিত মিলেছে। শিক্ষা ক্ষেত্রে বড়সড় রদবদল ঘটিয়ে বিদ্যালয় শিক্ষা ও উচ্চশিক্ষা দপ্তরকে দু’ভাগে ভাগ করে দু’জন পৃথক পূর্ণমন্ত্রীর হাতে দায়িত্ব তুলে দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। গত ৯ মে মুখ্যমন্ত্রীর শপথ গ্রহণের পর এবার নতুন মন্ত্রীদের তালিকা কার্যত চূড়ান্ত রূপ পেয়েছে, যা চলতি সপ্তাহেই রাজভবনে পাঠানো হতে পারে।
শিক্ষা দপ্তরে বড় রদবদল ও বাম মডেলের প্রত্যাবর্তন
বিজেপি সরকারের এই নতুন পরিকল্পনায় বাম আমলের প্রায় তিন দশকের পুরনো প্রশাসনিক কাঠামো ফিরে আসতে চলেছে। অতীতে বামফ্রন্ট সরকারের আমলে প্রাথমিক ও স্কুল শিক্ষার দায়িত্ব এবং উচ্চশিক্ষার দায়িত্ব আলাদা মন্ত্রীদের হাতে থাকত। ২০১১ সালে তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতায় আসার পর প্রথম দিকে স্কুল ও উচ্চশিক্ষা আলাদা থাকলেও পরবর্তী সময়ে এই দুই দপ্তরকে মিলিয়ে একটিমাত্র ‘শিক্ষা’ দপ্তর করা হয় এবং একজন পূর্ণমন্ত্রীর অধীনে আনা হয়। বর্তমান সরকার সেই নীতি বদলে পুনরায় দুই শিক্ষাদপ্তরের ভার পৃথক দুই পূর্ণমন্ত্রীর ওপর ন্যস্ত করতে চলেছে। মূলত দপ্তরের কাজের পরিধি কমিয়ে শিক্ষাক্ষেত্রে স্থবিরতা কাটানো এবং উন্নয়নমূলক কাজে গতি আনাই এই সিদ্ধান্তের মূল কারণ।
ভারসাম্য ও রাজনৈতিক পুরস্কারের সমীকরণ
নতুন ক্যাবিনেট সম্প্রসারণের তালিকায় চমক থাকলেও সামগ্রিকভাবে মন্ত্রিসভার কলেবর ছোট রাখা হচ্ছে। তবে মন্ত্রী নির্বাচনের ক্ষেত্রে ভৌগোলিক ভারসাম্য ও রাজনৈতিক সমীকরণকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনে যে সমস্ত জেলায় বিজেপি নিরঙ্কুশ আধিপত্য বজায় রাখতে পেরেছে, সেই সব জেলা থেকে একাধিক বিধায়ককে পুরস্কার স্বরূপ পূর্ণমন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী করা হচ্ছে। এর পাশাপাশি রাজ্যের প্রতিটি এলাকা এবং বিভিন্ন জাতি-উপজাতির সঠিক প্রতিনিধিত্ব রাখার বিষয়টিও চূড়ান্ত তালিকায় নিশ্চিত করা হয়েছে।
যেহেতু বর্তমান শাসক দলের জয়ী বিধায়কদের মধ্যে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, তাপস রায় এবং নিশীথ প্রামাণিক ছাড়া বাকিদের রাজ্য বা কেন্দ্রে মন্ত্রিত্বের পূর্ব অভিজ্ঞতা নেই, তাই মন্ত্রী মনোনয়নের ক্ষেত্রে প্রশাসনিক দক্ষতা পরিচালনায় পারদর্শিতাকেই প্রধান মাপকাঠি করা হয়েছে। বর্তমানে স্বরাষ্ট্র ও তথ্য সংস্কৃতির মতো গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরগুলো মুখ্যমন্ত্রীর নিজের হাতেই থাকবে। তবে গত ৯ মে শপথ নেওয়া দিলীপ ঘোষ, অগ্নিমিত্রা পাল, নিশীথ প্রামাণিক, অশোক কীর্তনিয়া এবং ক্ষুদিরাম টুডুর ওপর থেকে অতিরিক্ত কাজের চাপ কমাতে তাঁদের অধীনে থাকা বেশ কিছু দপ্তর নতুন মন্ত্রীদের মধ্যে বণ্টন করা হবে। এই ক্যাবিনেট সম্প্রসারণের ফলে রাজ্যের প্রশাসনিক কাজে যেমন গতি আসবে, তেমনই জেলা স্তরের রাজনৈতিক নেতৃত্বও নতুন উৎসাহ পাবে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।