শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ মেটাতে সিবিএসই-র পেমেন্ট ব্যবস্থায় বড়সড় বদল আসছে!

শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ মেটাতে সিবিএসই-র পেমেন্ট ব্যবস্থায় বড়সড় বদল আসছে!

সেন্ট্রাল বোর্ড অফ সেকেন্ডারি এডুকেশন বা সিবিএসই-র ডিজিটাল অর্থপ্রদান ব্যবস্থায় বড়সড় সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে কেন্দ্র। সম্প্রতি সিবিএসই-র ফলাফল-পরবর্তী ও পুনঃমূল্যায়ন প্রক্রিয়ার সময় শিক্ষার্থীদের অর্থপ্রদান সংক্রান্ত নানাবিধ প্রযুক্তিগত সমস্যা সামনে এসেছে। এই উদ্বেগের জেরেই মঙ্গলবার দেশের চারটি প্রধান রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের ঊর্ধ্বতন কর্তাদের সঙ্গে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেছেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। সরকারি বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, বৈঠকে স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া, ব্যাঙ্ক অফ বরোদা, কানাড়া ব্যাঙ্ক এবং ইন্ডিয়ান ব্যাঙ্কের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

পরীক্ষা-পরবর্তী পরিষেবা, পুনর্মূল্যায়ন, উত্তরপত্রের ফটোকপি সংগ্রহ এবং অন্যান্য ফি প্রদানের জন্য একটি শক্তিশালী, নির্ভরযোগ্য এবং শিক্ষার্থীবান্ধব ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর জোর দিয়েছেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী। তিনি ব্যাঙ্কগুলোকে সিবিএসই-র জন্য এমন একটি শক্তিশালী পেমেন্ট প্রোটোকল তৈরি করতে নির্দেশ দিয়েছেন, যা সময়মতো লেনদেন নিশ্চিত করবে। পাশাপাশি পেমেন্ট-সংক্রান্ত সমস্যার তাৎক্ষণিক সমাধান এবং অতিরিক্ত বা ব্যর্থ পেমেন্টের ক্ষেত্রে স্বয়ংক্রিয়ভাবে টাকা ফেরতের (অটো-রিফান্ড) ব্যবস্থাও কার্যকর করা হবে।

প্রযুক্তিগত বিভ্রাট ও পরীক্ষার বিশ্বাসযোগ্যতা

ডিজিটাল পেমেন্টের এই উদ্যোগের পাশাপাশি সিবিএসই-র সদ্য কার্যকর হওয়া ‘অনস্ক্রিন মার্কিং’ (ওসিএম) প্রক্রিয়া নিয়েও বড় ধরনের বিতর্ক তৈরি হয়েছে। গত ১৩ মে সিবিএসই দ্বাদশের ফল প্রকাশের পর বেদান্ত এবং সঞ্জনা নামের দুই পড়ুয়া অভিযোগ তোলেন যে, কম্পিউটার স্ক্রিনে তাঁদের যে উত্তরপত্রের স্ক্যান করা ছবি দেখানো হয়েছে, তা আদতে তাঁদের নয়। হাতের লেখা এবং শব্দের ব্যবধান দেখে সন্দেহ হওয়ায় তাঁরা বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানান। সিবিএসই পরবর্তীতে এই গুরুতর ভুল স্বীকার করে এবং সঠিক উত্তরপত্র আপলোড করে ফলাফল আপডেট করে দেয়।

তবে এই ঘটনা গোটা পরীক্ষা পদ্ধতির ডিজিটাইজেশন এবং এর নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। ওসিএম প্রক্রিয়ায় গলদের এই অভিযোগ ওঠার পর সিবিএসই প্রায় ৯.৮ মিলিয়ন উত্তরপত্রের মধ্যে ১৩,০০০-এরও বেশি উত্তরপত্র হাতে-কলমে খতিয়ে দেখতে বাধ্য হয়েছে। এই বিপুল পরিমাণ উত্তরপত্র পুনরায় খতিয়ে দেখার ঘটনা ইঙ্গিত করে যে, প্রযুক্তিগত ত্রুটিটি কেবল বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা ছিল না।

পেমেন্ট গেটওয়ের আধুনিকীকরণ শিক্ষার্থীদের হয়রানি ও আর্থিক অনিশ্চয়তা অনেকটাই কমাবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে একই সাথে উত্তরপত্র মূল্যায়ন এবং তা প্রদর্শনের মতো সংবেদনশীল প্রযুক্তিগত প্রক্রিয়াগুলোর ত্রুটি দূর না করা গেলে বোর্ডের সামগ্রিক স্বচ্ছতা বজায় রাখা কঠিন হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *