পুজোর আগেই চরম সংকট কুমোরটুলিতে, উধাও প্রতিমা তৈরির মাটি

বাঙালি শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপুজোর আর মাত্র কয়েক মাস বাকি। এই সময়ে কলকাতার ঐতিহ্যবাহী মৃৎশিল্প হাব কুমোরটুলিতে প্রতিমা তৈরির ব্যস্ততা তুঙ্গে থাকার কথা। কিন্তু বাস্তবে সেখানে দেখা দিয়েছে উল্টো ছবি। প্রতিমা তৈরির প্রধান উপকরণ মাটির তীব্র সংকটে কার্যত থমকে গিয়েছে মৃৎশিল্পীদের হাতের কাজ। পরিস্থিতি এতটাই গুরুতর আকার ধারণ করেছে যে, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে কাজ পুরোপুরি মুখ থুবড়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এর ফলে এই শিল্পের সঙ্গে যুক্ত কয়েক হাজার মানুষের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে।
সংকটের আসল কারণ
কুমোরটুলি মৃৎশিল্পী সমিতির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মাটি সরবরাহের পুরনো ব্যবস্থাটি রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও প্রশাসনিক কড়াকড়ির জেরে ব্যাহত হচ্ছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিভিন্ন এলাকা থেকে আগে যেভাবে মাটি আসত, সেই স্বাভাবিক সরবরাহ এখন পুরোপুরি বন্ধ। বর্তমানে বৈধ উপায়ে চালান কেটে মাটি আনার কথা বলা হলেও দীর্ঘদিনের অভ্যস্ত ব্যবস্থায় হঠাৎ এই পরিবর্তনে জটিলতা তৈরি হয়েছে। ফলতা, বিষ্ণুপুর, ডায়মন্ড হারবার ও ক্যানিংয়ের মতো এলাকাগুলি থেকে মাটি সরবরাহকারীরা এখন আর আগের মতো মাটি পাঠাচ্ছেন না। বিষয়টি নিয়ে মৃৎশিল্পী সমিতির কর্তারা বিভিন্ন মহলে এবং রাজনৈতিক নেতৃত্বদের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও এখনও পর্যন্ত কোনও স্থায়ী সমাধান মেলেনি।
উদ্বেগ ও সম্ভাব্য প্রভাব
সাধারণত মে-জুন মাসের এই সময় থেকেই কুমোরটুলির অলিগলিতে প্রতিমার কাঠামো তৈরি ও খড় বাঁধার কাজ পুরোদমে শুরু হয়ে যায়। কিন্তু রবীন্দ্র সরণি, কুমোরটুলি স্ট্রিট কিংবা বনমালী সরকার স্ট্রিটের কোথাও এখন আর মাটির স্তূপ চোখে পড়ছে না। মৃৎশিল্পীদের আশঙ্কা, দ্রুত এই মাটির সংকট না মিটলে সময়মতো প্রতিমা গড়ার কাজ শেষ করা আসাম্ভব হয়ে পড়বে। এর সরাসরি প্রভাব পড়বে রাজ্য তথা দেশের পুজো উদ্যোক্তাদের ওপর। নির্দিষ্ট সময়ে প্রতিমা সরবরাহ করতে না পারলে মৃৎশিল্পীরা যেমন বিপুল আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বেন, তেমনই ঐতিহ্যবাহী এই শিল্পের ভবিষ্যৎ ও এর সঙ্গে জড়িত হাজারো শ্রমিকের রুটিরুজি বড়সড় ধাক্কা খাবে। মৃৎশিল্পী সমিতির স্পষ্ট হুঁশিয়ারি, দ্রুত সমস্যার সমাধান করা না হলে তারা আগামী দিনে আন্দোলনের পথে হাঁটতে বাধ্য হবেন।