হাইকোর্টের সবুজ সংকেত মিলতেই কেরলমে ইডির মেগা অভিযান, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বিজয়নের বাড়িসহ ১০ জায়গায় তল্লাশি

হাইকোর্টের সবুজ সংকেত মিলতেই কেরলমে ইডির মেগা অভিযান, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বিজয়নের বাড়িসহ ১০ জায়গায় তল্লাশি

কেরলমের রাজনীতিতে তুলকালাম। অর্থ পাচার মামলার তদন্তে এবার সরাসরি রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়নের বাসভবনে হানা দিল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। বুধবার সকাল থেকেই প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর বাড়িসহ তিরুবনন্তপুরম ও তার আশেপাশের মোট ১০টি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে একযোগে তল্লাশি অভিযান শুরু করেছেন কেন্দ্রীয় তদন্তকারীরা। এই তালিকায় কোচি-ভিত্তিক খনিজ উত্তোলনকারী সংস্থা ‘কোচিন মিনারেলস অ্যান্ড রুটাইল লিমিটেড’ (সিএমআরএল)-এর অফিসও রয়েছে।

আদালতের রায়ের পরেই তৎপরতা

প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর মেয়ের সঙ্গে জড়িত এই আর্থিক কেলেঙ্কারিতে ইডির তদন্ত ও সমন জারির এক্তিয়ারকে চ্যালেঞ্জ করে কেরল হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল সিএমআরএল কর্তৃপক্ষ। তবে সম্প্রতি হাইকোর্ট সেই আবেদন স্পষ্ট খারিজ করে দেয় এবং জানায় যে পিএমএলএ আইনের অধীনে তদন্ত চালানোর পূর্ণ ক্ষমতা রয়েছে ইডির। আদালতের কাছ থেকে এই আইনি সবুজ সংকেত মেলার পরপরই অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে এই মেগা অভিযানে নামল কেন্দ্রীয় সংস্থাটি।

কোটি কোটি টাকার ভুয়া খরচ ও নেপথ্যের কারণ

এই অভিযানের মূল উৎস লুকিয়ে রয়েছে কোচি-ভিত্তিক বেসরকারি খনিজ সংস্থা সিএমআরএল-এর আর্থিক লেনদেনের মধ্যে। অভিযোগ, ২০১২-১৩ থেকে ২০১৮-১৯ অর্থবর্ষের মধ্যে সংস্থাটি পরিবহন এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনার নাম করে প্রায় ১৩৩.৮২ কোটি টাকা ভুয়া খরচ দেখিয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, কাগজে-কলমে খরচ দেখানো হলেও আদতে এই বিপুল পরিমাণ অর্থ নগদে তুলে নেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে সেই অর্থ প্রভাবশালী রাজনীতিবিদ, রাজনৈতিক দল, সংবাদমাধ্যম এবং কয়েকজন উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তার মধ্যে অবৈধভাবে বিতরণ করা হয়।

প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর কন্যার যোগসূত্র ও প্রভাব

গোটা মামলার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন পিনারাই বিজয়নের কন্যা বীণা বিজয়ন ও তাঁর আইটি সংস্থা ‘এক্সালজিক সলিউশনস’। অভিযোগ উঠেছে, ২০১৭ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে কোনও প্রকার সফটওয়্যার বা বিপণন পরিষেবা না দেওয়া সত্ত্বেও সিএমআরএল-এর পক্ষ থেকে বীণার সংস্থাকে ১.৭২ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছিল। ২০২৪ সালের শুরুতে সিরিয়াস ফ্রড ইনভেস্টিগেশন অফিস (এসএফআইও) এই জালিয়াতির বিরুদ্ধে মামলা করার পর, ইডি মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে (পিএমএলএ) তদন্ত শুরু করে।

রাজনৈতিক মহলের মতে, এই অভিযানের ফলে কেরলমের রাজনৈতিক সমীকরণে বড়সড় প্রভাব পড়তে চলেছে। হাইকোর্টের রক্ষাকবচ না থাকায় এবং ইডির এই সাঁড়াশি অভিযানের পর, আগামী দিনগুলিতে রাজ্যের একাধিক প্রভাবশালী ও বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বকে জেরার মুখোমুখি হতে হতে পারে, যা ধৃতদের আইনি জটিলতা আরও বাড়িয়ে তুলবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *