আরজি কর ও দুর্নীতি কাণ্ডে ব্যথিত কাকলি, সব দলীয় পদ থেকে ইস্তফা বারাসাতের সাংসদের!

রাজ্য রাজনীতিতে এক নজিরবিহীন নাটকীয় মোড়। তৃণমূল কংগ্রেসের সমস্ত সাংগঠনিক পদ থেকে ইস্তফা দিলেন বারাসাতের প্রবীণ সাংসদ ডাঃ কাকলি ঘোষ দস্তিদার। মুখ্যমন্ত্রী তথা দলীয় সুপ্রিমোর ডাকা এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক বৈঠকে যোগ দেওয়ার ঠিক পরেই তিনি এই চরম সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। নিজের ইস্তফাপত্রটি তিনি দলের সর্বভারতীয় রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সির কাছে পাঠিয়ে দিয়েছেন, যা বর্তমান পরিস্থিতিতে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
দলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ ও ইস্তফাপত্রের বিস্ফোরক তথ্য
দলের রাজ্য সভাপতিকে পাঠানো চিঠিতে কাকলি ঘোষ দস্তিদার স্পষ্ট উল্লেখ করেছেন যে, বেশ কিছুদিন ধরে রাজ্যে ঘটে চলা একাধিক ঘটনা তাঁকে গভীরভাবে ব্যথিত ও মানসিক মর্মাহত করেছে। শিক্ষা ক্ষেত্রে দুর্নীতি এবং খাদ্য দুর্নীতি নিয়ে জনমানসে ওঠা প্রশ্নের পাশাপাশি আরজি কর মেডিকেল কলেজে তরুণী চিকিৎসক ‘অভয়া’-র নৃশংস মৃত্যু এবং সেই ঘটনার তদন্ত নিয়ে ওঠা নানাবিধ প্রশ্ন ধামাচাপা দেওয়ার যে অভিযোগ উঠেছে, তা তিনি একজন চিকিৎসক ও সংবেদনশীল মানুষ হিসেবে কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না।
তীব্র নৈতিক সংকট ও সম্ভাব্য রাজনৈতিক প্রভাব
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একজন পেশাদার চিকিৎসক এবং দলের প্রবীণ মহিলা সাংসদ হিসেবে আরজি কর কাণ্ডের পর থেকেই হয়তো তিনি তীব্র নৈতিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলেন। মুখ্যমন্ত্রীর বৈঠকের পরপরই তাঁর এই সিদ্ধান্ত প্রমাণ করে যে, দলের অন্দরে এই সমস্ত ইস্যু নিয়ে ক্ষোভের আগুন জ্বলছিল। লোকসভার সাংসদ পদ বজায় রাখলেও, দলের সমস্ত সাংগঠনিক পদ একযোগে ত্যাগ করার এই ঘটনা বর্তমান শাসক শিবিরের অস্বস্তি ও অভ্যন্তরীণ ফাটলকে আরও একবার প্রকাশ্য রাস্তায় এনে দাঁড় করাল।
এক ঝলকে
- তৃণমূল কংগ্রেসের সমস্ত সাংগঠনিক ও দলীয় পদ থেকে ইস্তফা দিলেন প্রবীণ সাংসদ ডাঃ কাকলি ঘোষ দস্তিদার।
- মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডাকা হাইপ্রোফাইল বৈঠক শেষ করেই তিনি পদত্যাগের এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন।
- দলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সিকে পাঠানো চিঠিতে আরজি কর কাণ্ড, খাদ্য ও শিক্ষা দুর্নীতির মতো বিষয়গুলি নিয়ে গভীর ক্ষোভ ও বেদনা প্রকাশ করেছেন।
- আরজি করের নির্যাতিতা চিকিৎসকের মৃত্যুতে ওঠা প্রশ্ন ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগও তাঁকে ব্যথিত করেছে বলে চিঠিতে উল্লেখ রয়েছে।