আইনি নোটিস না দিয়ে কি রাতারাতি চালানো যায় বুলডোজার, বেআইনি নির্মাণ ভাঙার আসল নিয়ম কী!

কলকাতা থেকে জেলা— সম্প্রতি তিলজলা, কসবা বা বেলেঘাটার মতো একাধিক পুরসভা এলাকায় বেআইনি বহুতল ভাঙতে লাগাতার বুলডোজার অভিযান চালানো হচ্ছে। একের পর এক অবৈধ নির্মাণ গুঁড়িয়ে দেওয়ার এই ঘটনায় যেমন শোরগোল পড়েছে, তেমনই সাধারণ ফ্ল্যাট ক্রেতাদের মধ্যেও তৈরি হয়েছে চরম আতঙ্ক। তবে পুরসভা বা প্রশাসন চাইলেই হুট করে কোনো নোটিস ছাড়া একদিনে কারও বাড়ি বা বহুতল ভেঙে দিতে পারে না। এর পেছনে রয়েছে একটি সুনির্দিষ্ট এবং দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া।
কীভাবে চলে উচ্ছেদ অভিযান ও আইনি প্রক্রিয়া
আইনজীবীদের মতে, ভারতে যেকোনো নির্মাণ ভাঙার আগে নির্দিষ্ট আইনি ধাপ অনুসরণ করা বাধ্যতামূলক। প্রথমে অভিযোগের ভিত্তিতে পুরসভা এলাকাটি পরিদর্শন করে বেআইনি অংশ চিহ্নিত করে এবং মালিককে ‘শোকজ’ নোটিস পাঠায়। নোটিসে কোন অংশটি নিয়মবহির্ভূত তা স্পষ্ট উল্লেখ করে মালিককে জবাব দেওয়ার সময় দেওয়া হয়। প্রয়োজনে শুনানির (হিয়ারিং) ব্যবস্থাও করা হয়। এই সমস্ত আইনি প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরেই কেবল ‘ডেমোলিশন অর্ডার’ বা ভাঙার নির্দেশ জারি করা যায়। এর মাঝে বাড়ির মালিক চাইলে আদালতের দ্বারস্থ হয়ে স্থগিতাদেশ বা স্টে অর্ডারও নিতে পারেন।
ব্যতিক্রমী পরিস্থিতি ও তাৎক্ষণিক পদক্ষেপের নিয়ম
তবে সব ক্ষেত্রে এই দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার অপেক্ষা করা হয় না, এর কিছু ব্যতিক্রমও রয়েছে। যদি কোনো নির্মাণ সরকারি জমি বা অন্যের জায়গা জবরদখল করে তৈরি করা প্রমাণিত হয়, তবে প্রশাসন সরাসরি বুলডোজার চালাতে পারে। এছাড়া, অনুমোদিত প্ল্যানের (যেমন চারতলার অনুমতি নিয়ে সাততলা করা) বাইরে গিয়ে অতিরিক্ত অংশ নির্মাণ করলে এবং তা যদি আশপাশের বাড়ির জন্য বা সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার স্বার্থে বিপজ্জনক মনে হয়, তবে জনস্বার্থে পুরসভা দ্রুত ডেমোলিশন টিম ও পুলিশ বাহিনী নিয়ে গিয়ে সেই অবৈধ অংশ গুঁড়িয়ে দিতে পারে।
এক ঝলকে
- পুরসভা বা প্রশাসন আইনগতভাবে কোনো পূর্ব নোটিস বা শুনানির প্রক্রিয়া ছাড়া হঠাৎ কোনো সাধারণ বাড়ি ভেঙে দিতে পারে না।
- বেআইনি নির্মাণ চিহ্নিত করার পর প্রথমে শোকজ নোটিস পাঠানো হয় এবং মালিককে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া হয়।
- সরকারি জমি জবরদখল অথবা জননিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও বিপজ্জনক নির্মাণের ক্ষেত্রে প্রশাসন দ্রুত বুলডোজার চালাতে পারে।
- অনুমোদিত প্ল্যানের বাইরে গিয়ে অতিরিক্ত তলা বা সেটব্যাক রুল অমান্য করে তৈরি করা বহুতলগুলিই মূলত বেআইনি হিসেবে গণ্য হয়।