দলের সুদিনে ‘ভিভিআইপি’ বিলাসিতা আর দুর্দিনে কর্মীরাই একা, ক্ষোভ উগরে দিয়ে ইস্তফা তৃণমূলের দুই কাউন্সিলরের!

কলকাতা পুরসভার গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদ থেকে পদত্যাগ করার পর দলীয় নেতৃত্বের একাংশের বিরুদ্ধে যৌথ ক্ষোভ উগরে দিলেন ৯৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর অরূপ চক্রবর্তী এবং ১০৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সুশান্ত ঘোষ। পুরসভার গুরুত্বপূর্ণ পদ ছাড়ার আসল কারণ খোলসা করতে গিয়ে তাঁরা সরাসরি শাসকদলের সুবিধাভোগী এবং সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছাকাছি থাকা এক শ্রেণীর ‘ভিভিআইপি’ নেতাদের কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছেন। ক্ষমতা হারিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে পরিবর্তনের আবহে দলের সাধারণ কর্মীদের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে গভীর সংশয় প্রকাশ করেছেন এই দুই হেভিওয়েট পুর প্রতিনিধি।
বিপদে পাশে নেই মন্ত্রীরা, ক্ষুব্ধ পুর প্রতিনিধিরা
দুই বিদায়ী পদাধিকারীর প্রধান অভিযোগ, রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে দলের নিচুতলার সাধারণ কর্মীরা চরম মার খাচ্ছেন এবং বহু কর্মী বর্তমানে ঘরছাড়া হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, এই চরম সংকটের দিনে তাঁদের পাশে এসে দাঁড়ানোর মতো নূন্যতম সৌজন্য দেখাচ্ছেন না দলের কোনো হেভিওয়েট নেতা বা মন্ত্রী। ক্ষমতার বৃত্তে থাকা যে নেতারা এতদিন কনভয় ও বিলাসবহুল গাড়ি নিয়ে ঘুরেছেন, সাধারণ কর্মীদের এই কঠিন বিপদের দিনে তাঁদের কাউকেই ময়দানে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।
পরাজয়ের পর দলের ভূমিকা নিয়ে বিস্ফোরক প্রশ্ন
পদত্যাগের পর তৃণমূলের এই দুই দাপুটে কাউন্সিলর প্রশ্ন তুলেছেন, নির্বাচনে হেরে যাওয়ার পর দলের আসল ভূমিকা ও দায়িত্ব কী হওয়া উচিত? সুদিনে দলের থেকে সমস্ত রকম সুযোগ-সুবিধা ভোগ করে দুর্দিনে কর্মীদের একা ফেলে চলে যাওয়ার এই ‘ভিভিআইপি’ সংস্কৃতিকে তাঁরা তীব্র কটাক্ষ করেন। মূলত শীর্ষ নেতৃত্বের এই চরম উদাসীনতা, সুবিধাবাদী মানসিকতা এবং প্রতিকূল পরিস্থিতিতে সাধারণ কর্মীদের নিরাপত্তা দিতে না পারার মানসিক যন্ত্রণা থেকেই তাঁরা পুরসভার দায়িত্বপূর্ণ পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন বলে স্পষ্ট করেছেন।
এক ঝলকে
- কলকাতা পুরসভার গুরুত্বপূর্ণ পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে দলীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধে যৌথভাবে সরব হলেন কাউন্সিলর অরূপ চক্রবর্তী ও সুশান্ত ঘোষ।
- ক্ষমতার সুবাদে নেত্রীর কাছাকাছি থাকা এবং বিপুল সুযোগ-সুবিধা ভোগ করা ‘ভিভিআইপি’ নেতাদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা।
- রাজনৈতিক পালাবদলের পর মার খাওয়া ও ঘরছাড়া হওয়া দলের সাধারণ কর্মীদের পাশে কোনো মন্ত্রী বা হেভিওয়েট নেতা এসে দাঁড়াননি বলে অভিযোগ।
- দলের চরম সংকটের দিনে শীর্ষ নেতৃত্বের এমন উদাসীনতা ও নিষ্ক্রিয়তার প্রতিবাদেই এই পদত্যাগের সিদ্ধান্ত বলে জানিয়েছেন তাঁরা।