এল নিনোর চোখরাঙানি, বর্ষার আগে ভারতের কৃষিক্ষেত্রে ব্যাপক উদ্বেগের পূর্বাভাস!
কোনো আকস্মিক ঝড় বা নির্দিষ্ট মরশুম নয়, ‘এল নিনো’ হলো প্রশান্ত মহাসাগরের জলবায়ুগত এক ধীর অথচ মারাত্মক পরিবর্তন। সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়ার ব্যুরো অফ মেটিয়োরোলজি স্পষ্ট পূর্বাভাস দিয়ে জানিয়েছে যে, এল নিনো আর খুব বেশি দূরে নেই এবং তা দ্রুত ভূখণ্ডের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। এই উদ্বেগজনক পূর্বাভাসের পরপরই ভারতের কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান কৃষিক্ষেত্রে এর সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি ও প্রভাব মোকাবিলায় এক জরুরি বৈঠক ডেকেছেন। এমনিতেই দেশে দেরিতে বর্ষা ঢোকায় তীব্র গরম ও জলের সংকটে ভুগছেন সাধারণ মানুষ ও কৃষিজীবীরা।
কী এই এল নিনো এবং কেন এই উদ্বেগ
প্রশান্ত মহাসাগরের মধ্য ও পূর্বাংশের উষ্ণমণ্ডলীয় সমুদ্রপৃষ্ঠের জল যখন স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি গরম হয়ে যায়, তখন বিশ্বজুড়ে বায়ুপ্রবাহ ও বৃষ্টিপাতের স্বাভাবিক ছন্দ বদলে যায়। আবহাওয়াবিদদের মতে, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত ঘটানো ‘লা নিনা’ পরিস্থিতি শেষ হয়েছে। মে মাসে এসে পরিস্থিতি নিরপেক্ষ থাকলেও সমুদ্রপৃষ্ঠের নীচে বিপুল পরিমাণ তাপশক্তি জমতে শুরু করেছে, যা আগামী কয়েক মাসে উপরে উঠে এসে এল নিনোকে শক্তিশালী করবে। দ্য ন্যাশনাল ওসিয়ানিক অ্যান্ড অ্যাটমস্ফিয়ার অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের রিপোর্ট অনুযায়ী, মে থেকে জুলাইয়ের মধ্যে এল নিনো আসার সম্ভাবনা ৮২ শতাংশ, যা বছরের শেষে ৯৬ শতাংশে পৌঁছাতে পারে।
ভারতের খরিফ শস্য ও গ্রামীণ অর্থনীতিতে সম্ভাব্য প্রভাব
ভারতের সামগ্রিক কৃষিব্যবস্থা এবং গ্রামীণ অর্থনীতি মূলত দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ুর ওপর নির্ভরশীল, যা জুন থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে দেশের প্রায় ৭০ শতাংশ বৃষ্টির জোগান দেয়। এই সময়েই ভারতের প্রায় ৬০ শতাংশ খরিফ শস্য চাষ করা হয়। বিগত বছরের অভিজ্ঞতা থেকে দেখা গেছে, এল নিনো সক্রিয় থাকলে বর্ষার দ্বিতীয় অর্ধে অর্থাৎ মরশুমের শেষভাগে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ আশঙ্কাজনকভাবে কমে যায়। এর ফলে দেশের একটি বড় অংশে খরা পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে, যা ফসলের ফলন কমিয়ে কৃষকদের ওপর মারাত্মক আর্থিক চাপ সৃষ্টি করবে এবং দেশের খাদ্য সুরক্ষাকে সংকটের মুখে দাঁড় করাতে পারে।
এক ঝলকে
- অস্ট্রেলিয়ার আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, প্রশান্ত মহাসাগরে দ্রুত তৈরি হওয়া এল নিনো ভূখণ্ডের খুব কাছাকাছি চলে এসেছে।
- মে থেকে জুলাইয়ের মধ্যে এল নিনো আসার সম্ভাবনা ৮২ শতাংশ এবং বছরের শেষে তা ৯৬ শতাংশে পৌঁছানোর আশঙ্কা রয়েছে।
- পরিস্থিতি মোকাবিলায় ভারতের কৃষিমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান কৃষিক্ষেত্রে এর প্রভাব নিয়ে জরুরি বৈঠক ডেকেছেন।
- এল নিনোর প্রভাবে বর্ষার শেষভাগে বৃষ্টি কম হলে দেশের ৬০ শতাংশ খরিফ শস্যের উৎপাদন ব্যাহত হতে পারে এবং খরার ঝুঁকি বাড়বে।