বারুইপুর কাণ্ডে মেগা ক্র্যাকডাউন, ধৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪০

বারুইপুর কাণ্ডে মেগা ক্র্যাকডাউন, ধৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪০

বারুইপুর: বারুইপুরে ১২ বছরের নাবালিকাকে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনা এবং পরবর্তীতে গণপিটুনিতে ইন্দ্রজিৎ মণ্ডলের মৃত্যুর ঘটনায় রাজ্যজুড়ে শোরগোল পড়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সরাসরি তীব্র সাম্প্রদায়িক উস্কানি ও মৌলবাদী যোগের অভিযোগ তুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। শনিবার বারুইপুরে নিহত ইন্দ্রজিতের পরিবারের সঙ্গে দেখা করে তিনি দাবি করেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে একদল উগ্র ধর্মীয় মৌলবাদী সুপরিকল্পিতভাবে ইন্দ্রজিৎকে চিহ্নিত করে পিটিয়ে খুন করেছে।

নিহতের পরিবারকে সরকারি সহায়তা মুখ্যমন্ত্রী এদিন ইন্দ্রজিতের পরিবারের হাতে রাজ্য সরকারের তরফ থেকে ২৫ লক্ষ টাকার চেক এবং তাঁর দাদা বাপীকে বারুইপুর পুলিশে সিভিক ভলান্টিয়ার পদে চাকরির নিয়োগপত্র তুলে দেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “তদন্তের তদারকি আমি নিজে করছি। ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS) অনুযায়ী অপরাধীদের এমন কঠোর শাস্তি দেওয়া হবে যা এক নজিরবিহীন দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।”

তদন্তে বড় সাফল্য ও গণগ্রেফতার মুখ্যমন্ত্রীর সফরের ঠিক আগেই বারুইপুর পুলিশ ইন্দ্রজিৎ হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে আরও তিনজনকে গ্রেফতার করেছে। ধৃতরা হলো শরিফুল মল্লিক, আবু সিদ্দিকি সরকার এবং শামিম আলি খান। পুলিশ সূত্রে খবর, শরিফুলই গণপিটুনির মূল নেতৃত্ব দিয়েছিল এবং তাকে দিঘা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশের ওপর হামলা, ভাঙচুর এবং গণপিটুনির ঘটনায় এখনও পর্যন্ত মোট ৪০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে, যার মধ্যে শুধুমাত্র ইন্দ্রজিৎ হত্যা মামলাতেই ধৃতের সংখ্যা ৭।

রাজনৈতিক চাপানউতোর মুখ্যমন্ত্রীর এই ‘মৌলবাদী’ তত্ত্ব এবং তড়িঘড়ি ক্ষতিপূরণ প্রদানের সিদ্ধান্তকে ঘিরে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জল্পনা তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে, নির্যাতিতা নাবালিকার পরিবারের সুরক্ষার স্বার্থে তাদের বাড়ির কাছে একটি স্থায়ী পুলিশ ফাঁড়ি তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। পুলিশের এনকাউন্টারে নাবালিকা ধর্ষণ ও খুনের মূল অভিযুক্ত প্রভাস সরদারের মৃত্যু নিয়ে অবশ্য মুখ্যমন্ত্রী এ দিন বিশেষ কোনও মন্তব্য করেননি। প্রশাসনের দাবি, প্রতিটি ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত চলছে এবং দোষী কাউকেই রেহাই দেওয়া হবে না।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *