অভিষেককে নিশানা কল্যাণের! অরূপের ইস্তফার জন্য সরাসরি কাঠগড়ায় তুললেন শ্রীরামপুরের সাংসদ

অভিষেককে নিশানা কল্যাণের! অরূপের ইস্তফার জন্য সরাসরি কাঠগড়ায় তুললেন শ্রীরামপুরের সাংসদ

নিজস্ব প্রতিনিধি: তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে চলা নজিরবিহীন কোন্দল ও ইস্তফার হিড়িক এবার এক চরম নাটকীয় মোড় নিল। কলকাতা পুরসভার ‘মিউনিসিপ্যাল অ্যাকাউন্টস কমিটি’র সদস্যপদ থেকে অরূপ চক্রবর্তীর ইস্তফা দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে এবার সরাসরি দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে তীব্র ভাষায় বিঁধলেন শ্রীরামপুরের বর্ষীয়ান সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। অরূপ চক্রবর্তীর এই আকস্মিক দলবিরোধী সুর ও পদত্যাগের জন্য তিনি পরোক্ষভাবে অভিষেকের ‘পছন্দ’ ও নেতৃত্ব নির্বাচনকেই দায়ী করেছেন।

‘অরূপকে নেতা করেছেন কে? অভিষেক!’— বিস্ফোরক কল্যাণ

দলের অন্দরের এই চরম সংকটের আবহেই এক বিস্ফোরক বিবৃতিতে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি শীর্ষ নেতৃত্বকে নিশানা করেন। অরূপ চক্রবর্তীর ইস্তফা ও বিস্ফোরক মন্তব্যের প্রেক্ষিতে কল্যাণবাবু বলেন, “অরূপকে নেতা করেছেন কে? অভিষেক। তাই উনিই দায়ী এ সবের জন্য। অভিষেক যাঁদের নেতা করেছেন, তাঁরাই এখন ওঁর বিরুদ্ধে বলছেন।” তাঁর এই মন্তব্য যে দলের অন্দরে অভিষেক শিবিরের প্রতি এক প্রকাশ্য জেহাদ, তা নিয়ে কোনো সংশয় নেই রাজনৈতিক মহলের।

অরূপের যোগ্যতা নিয়ে বড় প্রশ্ন

তৃণমূলের অন্দরে ‘অভিষেক ঘনিষ্ঠ’ বলে পরিচিত মুখপাত্র অরূপ চক্রবর্তীর যোগ্যতা নিয়েও এদিন তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি ক্ষোভ উগরে দিয়ে প্রশ্ন তোলেন, “অরূপের কী যোগ্যতা আছে যে, ও সারা রাজ্যের নেতা হবে? এতদিন ও গোটা রাজ্যে বড় বড় কথা বলে, বক্তৃতা করে বেড়াল। আজ যখন দলের দুঃসময়, কর্মীরা ঘরছাড়া, তখন ও কেন পাশে না দাঁড়িয়ে পালিয়ে যাচ্ছে? আজ ও কেন যাচ্ছে না?”

ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যে ক্ষমতা বদলের পর থেকেই তৃণমূলের অন্দরে ‘নবীন বনাম প্রবীণ’ দ্বন্দ্ব যে কতটা মারাত্মক আকার ধারণ করেছে, কল্যাণের এই আক্রমণাত্মক বিবৃতি তারই জলজ্যান্ত প্রমাণ। নির্বাচনের পর যেখানে দলের একজোট হয়ে লড়াই করার কথা, সেখানে শ্রীরামপুরের সাংসদের এই সরাসরি অভিষেক-বিদ্বেষী মন্তব্য জোড়াফুল শিবিরের ভাঙন ও অভ্যন্তরীণ ক্ষোভকে আরও কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিল বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *