‘গিরগিটি’র চেয়েও ভয়ঙ্কর! দলবদলু ও বিদ্রোহীদের বিঁধে বিস্ফোরক কবিতা লিখলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

‘গিরগিটি’র চেয়েও ভয়ঙ্কর! দলবদলু ও বিদ্রোহীদের বিঁধে বিস্ফোরক কবিতা লিখলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

নিজস্ব প্রতিনিধি: ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে বাংলায় নজিরবিহীন ভরাডুবির পর থেকেই তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে কার্যত মহাবিদ্রোহ শুরু হয়েছে। একের পর এক সাংসদ, বিধায়ক থেকে শুরু করে নিচুতলার কাউন্সিলররা দল ছাড়ছেন বা প্রকাশ্যেই শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন। জোড়াফুল শিবিরের এই চরম দুর্দিনের মাঝেই এবার কলম ধরলেন তৃণমূল সুপ্রিমো তথা রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই কঠিন পরিস্থিতিতে দলবদলু ও সুবিধাবাদী নেতাদের তীব্র আক্রমণ করে ‘গিরগিটি’ শীর্ষক একটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও বিস্ফোরক কবিতা লিখেছেন তিনি।

‘গিরগিটির চেয়েও ভয়ঙ্কর’ — কবিতায় তীব্র ক্ষোভ

রাজনৈতিক পালাবদলের পর তৃণমূলের অন্দরে যে চরম অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই নতুন কবিতায় তারই স্পষ্ট প্রতিফলন মিলেছে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। কবিতার ছত্রে ছত্রে তিনি নাম না করে দলত্যাগী ও বিদ্রোহী নেতাদের নিশানা করেছেন। তিনি লিখেছেন, “গিরগিটির চেয়েও ভয়ঙ্কর। বহুরূপীও তো রং বদলায়।”

এখানেই শেষ নয়, দলবদলু নেতাদের এই চরিত্র বদলের নেপথ্যে যে আর্থিক অনিয়ম এবং ব্যক্তিগত ফায়দা লোটার বিষয় রয়েছে, তা-ও কবিতায় সরাসরি ইঙ্গিত করেছেন মমতা। ক্ষমতার লোভে বা কেন্দ্রীয় এজেন্সির ভয়ে যাঁরা রাতারাতি জার্সি পাল্টাচ্ছেন, তাঁদের ‘স্বার্থপরতা’ ও ‘আর্থিক লেনদেন’-এর কথাও কবিতায় ফুটিয়ে তুলেছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী।

দল ছাড়ার হিড়িক, বিদ্রোহীদের চড়া সুর

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, গত ৪ মে ভোটের ফলাফল প্রকাশের পর থেকেই তৃণমূলের অন্দরে ভাঙন অব্যাহত। ইতিমধ্যেই সুশান্ত ঘোষ, অরূপ চক্রবর্তীর মতো চেনা মুখেরা দলীয় পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। অন্যদিকে, প্রবীণ সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বকে কাঠগড়ায় তুলেছেন। আবার বিষ্ণুপুরের বিজেপি সাংসদ সৌমিত্র খাঁ দাবি করেছেন, তৃণমূলের অন্তত ৫০ জন বিধায়ক ও ২০ জন সাংসদ বিজেপিতে আসার জন্য পা বাড়িয়ে রেখেছেন।

দলের এই মহাসংকটের সময়ে দাঁড়িয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই ‘গিরগিটি’ কবিতা আদতে সেই সমস্ত নেতাদেরই চরম বার্তা, যাঁরা ক্ষমতার লোভে রাতারাতি রং পাল্টাচ্ছেন। তবে শুধু কবিতা লিখে দলের এই ভাঙন এবং কর্মীদের ক্ষোভ কতটা রোখা যাবে, তা নিয়ে খোদ জোড়াফুল শিবিরের অন্দরেই এখন বড় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *