টিকিটের দামে কেনা যাবে ফ্ল্যাট, ৪৫ বছর পর চাকা ঘুরল বিশ্বের সবচেয়ে বিলাসবহুল ট্রেনের!

টিকিটের দামে কেনা যাবে ফ্ল্যাট, ৪৫ বছর পর চাকা ঘুরল বিশ্বের সবচেয়ে বিলাসবহুল ট্রেনের!

ভারতের বুকে এমন এক রেল যাত্রা রয়েছে যার আভিজাত্যের কাছে আধুনিক বন্দে ভারত, রাজধানী বা শতাব্দীও ফিকে পড়ে যায়। বিশ্বের অন্যতম বিলাসবহুল এই ট্রেনের নাম ‘মহারাজাস এক্সপ্রেস’, যা সাধারণ মানুষের কাছে ‘প্যালেস অন হুইলস’ বা চলন্ত রাজপ্রাসাদ নামেই বেশি পরিচিত। দীর্ঘ ৪৫ বছরের ইতিহাসে এই প্রথমবার নিজেদের চেনা নিয়মে বড়সড় বদল এনেছে এই রাজকীয় ট্রেন কর্তৃপক্ষ।

এতকাল পর্যন্ত কেবল সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসের মনোরম আবহাওয়ায় পর্যটকদের নিয়ে যাত্রা করত এই ট্রেন। তবে এবারই প্রথম মে মাসের তীব্র গরমের মরসুমেও রাজস্থানের বুক চিরে পথ চলা শুরু করেছে এই বিলাসবহুল ট্রেন। রাজকীয় এই ভ্রমণের অভিজ্ঞতাকে সারা বছর ধরে পর্যটকদের কাছে পৌঁছে দিতেই কর্তৃপক্ষের এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত।

চলন্ত প্রাসাদে রাজকীয় বন্দোবস্ত

এই ট্রেনের অন্দরমহল সাজানো হয়েছে ভারতীয় রাজপ্রাসাদগুলোর অনুকরণে। ট্রেনের ভেতরেই রয়েছে ‘রঙমহল’ ও ‘ময়ূরমহল’ নামের দুটি অত্যাধুনিক লাক্সারি রেস্তরাঁ। এর মধ্যে সবচেয়ে আকর্ষণীয় হলো ৪৪৮ স্কোয়্যার ফিটের ‘প্রেসিডেনশিয়াল স্যুইট’। দুজন যাত্রীর থাকার উপযোগী এই স্যুইটে রয়েছে দুটি বেডরুম, একটি লিভিং রুম, একাধিক বাথরুম, মিনিবার, লেখার টেবিল এবং সার্বক্ষণিক সেবার জন্য একজন ব্যক্তিগত বাটলার।

প্যাকেজের ধরনের ওপর ভিত্তি করে যাত্রীরা জয়পুর, আগ্রা, বারাণসী, উদয়পুর, রণথম্বোড় ও খাজুরাহোর মতো ঐতিহাসিক স্থানগুলো ঘুরে দেখার সুযোগ পান। টিকিটের মূল্যের ভেতরেই অন্তর্ভুক্ত থাকে সমস্ত রাজকীয় খাবার, দর্শনীয় স্থানের প্রবেশমূল্য এবং গাইডের খরচ।

আকাশছোঁয়া খরচ ও সম্ভাব্য প্রভাব

এই ট্রেনের টিকিট মূল্য সাধারণ মানুষের কল্পনার অতীত। ট্রেনের সবচেয়ে সাশ্রয়ী ‘ডিলাক্স কেবিন’-এ ৪ দিনের ‘ট্রেজার্স অফ ইন্ডিয়া’ প্যাকেজের সর্বনিম্ন ভাড়া জনপ্রতি ৪ লক্ষ টাকা। এই যাত্রা ৭ দিন পর্যন্ত বাড়ালে খরচ পড়ে প্রায় ৭ লক্ষ টাকা। আর প্রিমিয়াম ‘প্রেসিডেনশিয়াল স্যুইট’-এর ভাড়া জনপ্রতি ২০ লক্ষ টাকা, যা পর্যটনের ভরা মরসুমে ২১ লক্ষ টাকা পর্যন্ত পৌঁছায়। এই বিপুল পরিমাণ অর্থ দিয়ে ভারতের যেকোনো বড় শহরে অনায়াসেই একটি ফ্ল্যাট কেনা সম্ভব।

গ্রীষ্মের প্রচণ্ড দাবদাহের মধ্যে মে মাসে ট্রেনটি চালু করার ফলে পর্যটকদের রাজস্থানের তীব্র গরমের মুখোমুখি হতে হবে। তবে এই সিদ্ধান্তের ফলে অফ-সিজনেও ভারতের রাজকীয় পর্যটন শিল্পের নতুন দুয়ার উন্মোচিত হবে এবং বিদেশি ও অতি-ধনী পর্যটকদের জন্য গ্রীষ্মকালীন ভ্রমণের এক অনন্য অভিজ্ঞতা তৈরি হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *