পুরুষের অ্যাকাউন্টে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা! শুভেন্দুর বার্তার পরেই বহরমপুরে আটক ব্যবসায়ী রাকিবুল

রাজ্যের অন্যতম জনপ্রিয় সামাজিক প্রকল্প ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ নিয়ে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। মহিলাদের জন্য বরাদ্দ এই আর্থিক সহায়তার টাকা মাসের পর মাস ধরে ঢুকছিল এক পুরুষের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে। সম্প্রতি এক সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এই দুর্নীতির খতিয়ান তুলে ধরার পর সক্রিয় হয়ে উঠেছে প্রশাসন। মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্যের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মুর্শিদাবাদের বহরমপুর থেকে আটক করা হয়েছে রাকিবুল শেখ নামের এক হোটেল ব্যবসায়ীকে।
মুখ্যমন্ত্রীর দাবি অনুযায়ী, রাজ্যে প্রায় ৩০ লক্ষ ভুয়ো অ্যাকাউন্টে এই প্রকল্পের টাকা যাচ্ছিল, যার মধ্যে বহু অনুপ্রবেশকারী এবং পুরুষও রয়েছেন। বহরমপুরের রাকিবুল শেখের উদাহরণ দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানান, এই টাকা শুধুমাত্র রাষ্ট্রবাদী ভারতীয় মহিলারাই পাবেন, কোনো অবৈধ সুবিধাভোগী নয়। এই ঘটনার পরই বহরমপুর থানার পুলিশ রাকিবুলকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে।
আর্থিক অনটনের অজুহাত ও প্রশাসনিক গাফিলতি
ধৃত রাকিবুল শেখ বহরমপুর এলাকার একজন ছোট ব্যবসায়ী। তিনি স্বীকার করেছেন যে, কোনোদিন আবেদন না করা সত্ত্বেও দীর্ঘ বছর ধরে তাঁর অ্যাকাউন্টে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা ঢুকছিল। প্রাথমিক অনটনের কারণে তিনি সেই টাকা তুলেও নেন। বিষয়টি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি বা গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধানকে জানানো হলেও কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে তাঁর দাবি। ভুলবশত টাকা আসার এই ঘটনাটি যে অন্যায়, তা মেনে নিয়েছেন অভিযুক্ত। তবে তদন্তকারীদের নজরে রয়েছে আরও একটি বিষয়— অভিযুক্ত রাকিবুল এবং তাঁর স্ত্রী সুলতানা পারভীনের নাম ইতিমধ্যেই ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে এবং বিষয়টি বর্তমানে ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন।
যাচাই প্রক্রিয়া ও প্রকল্পের ভবিষ্যৎ প্রভাব
এই ঘটনার জেরে রাজ্য জুড়ে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের উপভোক্তাদের তালিকা পুনর্মূল্যায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নবান্নের সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী সাফ জানিয়েছেন, অভারতীয় এবং পুরুষদের অ্যাকাউন্টে যাওয়া টাকার উৎস বন্ধ করতে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। ঝাড়াই-বাছাইয়ের মাধ্যমে সমস্ত ভুয়ো নাম বাদ দিতেই নতুন করে ফর্ম পূরণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
প্রশাসনের এই কড়া পদক্ষেপের ফলে আগামী দিনে প্রকৃত যোগ্য ও বৈধ ভারতীয় মহিলারাই কেবল এই সরকারি সহায়তার আওতায় আসবেন। তবে এই ঘটনা সরকারি স্তরে ডেটা যাচাইকরণ এবং স্ক্রুটিনি প্রক্রিয়ার বড়সড় গলদকে প্রকাশ করে দিয়েছে, যা খতিয়ে দেখতে পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট দফতর তদন্ত শুরু করেছে।