সরকারের বিরোধিতার খেসারত, ইরানের বিশ্বকাপ দল থেকে বাদ তারকা ফুটবলার সর্দার আজমুন

সরকারের বিরোধিতার খেসারত, ইরানের বিশ্বকাপ দল থেকে বাদ তারকা ফুটবলার সর্দার আজমুন

বিশ্বকাপের কাউন্টডাউন শুরু হতেই তীব্র বিতর্কে জড়িয়ে পড়ল ইরান জাতীয় ফুটবল দল। বিশ্বকাপের চূড়ান্ত প্রস্তুতির মাঝেই দেশের অন্যতম সেরা ও তারকা ফুটবলার সর্দার আজমুনকে প্রাথমিক দল থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের পর থেকেই ফুটবল সমর্থকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে। অভিযোগ উঠেছে, ফুটবলীয় কোনো কারণ নয়, বরং রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জেরেই দল থেকে ছেঁটে ফেলা হয়েছে এই তারকা স্ট্রাইকারকে।

বিতর্কের কেন্দ্রে রাজনৈতিক কারণ ও প্রতিবাদ

ইরানের কোচ আমির ঘালেনোই বিশ্বকাপের জন্য যে ৩০ জনের প্রাথমিক স্কোয়াড ঘোষণা করেছেন, সেখানে স্থান পাননি আজমুন। অথচ দেশের জার্সিতে ৯১ ম্যাচে ৫৭টি গোল করা আজমুন ইরানের ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সফল গোলদাতা। ইউরোপের বায়ার লেভারকুসেন, এএস রোমা এবং জেনিত সেন্ট পিটার্সবার্গের মতো বড় ক্লাবে খেলার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। এই বাদ পড়ার বিষয়টি সম্পূর্ণ রাজনৈতিক রূপ ধারণ করেছে। অতীতে দেশের সরকারের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে সরব হয়েছিলেন আজমুন। বিশেষ করে ২০২২ সালের মাহসা আমিনির মৃত্যুর পর ইরান জুড়ে শুরু হওয়া নারী আন্দোলনে সংহতি জানিয়ে সমাজমাধ্যমে প্রশাসনের তীব্র সমালোচনা করেছিলেন তিনি। সেই সময় তিনি স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, ইরানি নারীদের সম্মানের জন্য জাতীয় দল থেকে বাদ পড়ার ত্যাগ স্বীকার করতেও তিনি প্রস্তুত। এছাড়া সম্প্রতি দুবাইয়ের শাসকের সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎও ইরান সরকার ইতিবাচকভাবে নেয়নি বলে জানা গিয়েছে।

ক্ষোভ ও সম্ভাব্য প্রভাব

আজমুনকে বাদ দেওয়ার এই সিদ্ধান্ত ইরানের ফুটবল ভক্তদের পাশাপাশি রাজনৈতিক মহলেও আলোড়ন তৈরি করেছে। দেশের রাজনীতিবিদ আবদোলকরিম হোসেনজাদেহ প্রকাশ্যে কোচের কাছে আবেদন জানিয়েছেন আজমুনকে দলে ফেরানোর জন্য এবং একে জাতীয় সংহতির প্রশ্ন হিসেবে উল্লেখ করেছেন। ফুটবল বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্বকাপের মতো মঞ্চে দলের সেরা গোলদাতাকে রাজনৈতিক কারণে বাদ দেওয়ায় মাঠের পারফরম্যান্সে ইরান দল বড়সড় ধাক্কা খেতে পারে। একই সঙ্গে এই সিদ্ধান্ত দলের অভ্যন্তরে বিভেদ সৃষ্টি করতে পারে এবং বিশ্বমঞ্চে ইরানের ক্রীড়া সংস্কৃতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। ক্রীড়া ও রাজনীতির এই সংঘাত ইরানের বিশ্বকাপ অভিযানকে চরম অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *