পাটখেতে তৃণমূল নেতার ‘গুপ্তধন’, মাটির নিচে বস্তাভর্তি কোটি কোটি টাকা উদ্ধারে চাঞ্চল্য

পাটখেতে তৃণমূল নেতার ‘গুপ্তধন’, মাটির নিচে বস্তাভর্তি কোটি কোটি টাকা উদ্ধারে চাঞ্চল্য

বাদুড়িয়ার তৃণমূল নেতা তথা পুরসভার চেয়ারম্যান দীপঙ্কর ভট্টাচার্য গ্রেপ্তারের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। ধৃত নেতার দেখানো পথ ধরে তাঁর বাড়ির অদূরে একটি পাটখেত থেকে উদ্ধার হয়েছে বিপুল পরিমাণ টাকা ও ট্রলি ব্যাগ। মাটির নিচে বস্তাবন্দি অবস্থায় লুকানো এই বিপুল অঙ্কের অর্থ উদ্ধার করতে গিয়ে রীতিমতো চোখ কপালে উঠেছে তদন্তকারীদের।

দুর্নীতির শিকড় ও নাটকীয় উদ্ধার অভিযান

দুর্যোগকবলিত সাধারণ মানুষের জন্য বরাদ্দ প্রায় ৪ হাজার সরকারি ত্রিপল অবৈধভাবে মজুত করার অভিযোগে গত সোমবার রাতে গ্রেপ্তার হন বাদুড়িয়া পৌরসভার চেয়ারম্যান দীপঙ্কর ভট্টাচার্য। গ্রেপ্তারের সময়ই তাঁর বাড়ি ও অফিস থেকে নগদ ৮০ লক্ষ টাকা উদ্ধার করে পুলিশ। এরপর আদালত তাঁকে পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিলে, তদন্তের স্বার্থে ধৃত নেতাকে নিয়ে তাঁর এলাকায় পুনর্নির্মাণে যায় বসিরহাট জেলা পুলিশ। সেখানেই স্থানীয়দের তথ্যের ভিত্তিতে এবং ধৃত নেতার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী অদূরের একটি পাটখেতে তল্লাশি চালানো হয়। মাটি খুঁড়তেই বেরিয়ে আসে একের পর এক রহস্যময় বস্তা ও ট্রলি ব্যাগ, যার ভেতরে ঠাসা ছিল কোটি কোটি টাকার নোটের বান্ডিল। এছাড়া বেশ কিছু বস্তায় গুরুত্বপূর্ণ নথিও মিলেছে। তল্লাশি প্রক্রিয়া জোরদার করতে পুলিশ এলাকায় ড্রোন ওড়ায় এবং বিপুল পরিমাণ অর্থ কাঁধে করে নিয়ে যেতে দেখা যায় পুলিশ কর্মীদের।

প্রভাব এবং তদন্তের পরবর্তী রূপরেখা

মাটির নিচ থেকে এই বিপুল পরিমাণ কালো টাকা উদ্ধারের ঘটনাটি রাজনৈতিক মহলে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। প্রাথমিক অনুমান অনুযায়ী, উদ্ধার হওয়া অর্থের পরিমাণ কোটি কোটি টাকা, যা সরকারি ত্রাণ চুরি এবং দুর্নীতির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত বলে মনে করা হচ্ছে। এই ঘটনার রেশ ধরে ইতিমধ্যেই তদন্তকারীরা দীপঙ্কর ভট্টাচার্যের ব্যক্তিগত সচিব শামীম গাজিকে বাদুড়িয়ার বাঁটুলডাঙ্গা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছেন। বিপুল এই অর্থ ও নথিপত্র উদ্ধারের ফলে এই দুর্নীতির চক্রটি কতটা গভীরে ছড়িয়ে রয়েছে এবং এর সাথে আর কারা জড়িত, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। তবে উদ্ধার হওয়া টাকার সঠিক পরিমাণ কত, তা এখনও পুলিশি সূত্রের তরফে আনুষ্ঠানিকভাবে স্পষ্ট করা হয়নি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *