পাহাড়প্রমাণ দুর্নীতির পক্ষে আর ঢাল হতে পারছি না, মমতাকে চিঠি দিয়ে মুখপাত্রের পদ ছাড়লেন শান্তনু

পাহাড়প্রমাণ দুর্নীতির পক্ষে আর ঢাল হতে পারছি না, মমতাকে চিঠি দিয়ে মুখপাত্রের পদ ছাড়লেন শান্তনু

রাজ্যে ক্ষমতার পটপরিবর্তনের পর তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে ভাঙন ও ক্ষোভের পারদ ক্রমশ ঊর্ধ্বমুখী। এবার সেই তালিকায় নতুন মাত্রা যোগ করে দলের জাতীয় মুখপাত্রের পদ থেকে ইস্তফা দিলেন চিকিৎসক-নেতা তথা রাজ্যসভার প্রাক্তন সাংসদ শান্তনু সেন। তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চিঠি পাঠিয়ে তিনি নিজের পদত্যাগের কথা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন। লোকসভা নির্বাচনের পর রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণ বদলে যেতেই শান্তনু সেনের এই সিদ্ধান্ত শাসক শিবিরের জন্য বড়সড় ধাক্কা বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

জনতার রায় ও বিবেকের দংশন

পদত্যাগের পর একটি ভিডিও বার্তায় শান্তনু সেন নিজের ক্ষোভ উগরে দিয়ে জানান, দলের জন্মলগ্ন থেকে তিনি নিষ্ঠার সঙ্গে সমস্ত দায়িত্ব পালন করেছেন। কিন্তু বিগত দিনে এমন বহু ঘটনা ঘটেছে, যা সাধারণ মানুষ বা তাঁর নিজের বিবেক কোনোভাবেই সমর্থন করেনি। চাকরি চুরি থেকে শুরু করে আরজি কর কাণ্ডের মতো একের পর এক পাহাড়প্রমাণ দুর্নীতির ঘটনা সামনে আসার পরও, দলের মুখপাত্র হিসেবে তাঁকে সংবাদমাধ্যমের সামনে দাঁড়িয়ে সাফাই গাইতে হয়েছে। এর জন্য আমজনতার ক্ষোভ এবং কটূক্তিও তাঁকে হজম করতে হয়েছে। গত ৪ মে নির্বাচনের ফলাফলে সাধারণ মানুষ এই সমস্ত দুর্নীতির বিরুদ্ধে স্পষ্ট রায় দেওয়ার পর, আর কোনোভাবেই এই অপকর্মগুলোর পক্ষে ঢাল হওয়া তাঁর পক্ষে সম্ভব নয় বলেই তিনি ইস্তফার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

দলের অন্দরে অস্বস্তি ও সম্ভাব্য প্রভাব

শান্তনু সেনের এই পদত্যাগ আকস্মিক কোনো ঘটনা নয়, বরং এর পেছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত অসন্তোষ। এর আগে আরজি কর হাসপাতালে চিকিৎসক ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার পর হাসপাতালের অভ্যন্তরীণ দুর্নীতি নিয়ে সরব হওয়ায় তাঁকে দলবিরোধী মন্তব্যের অভিযোগে সাসপেন্ড ও মুখপাত্রের পদ থেকে অপসারিত করা হয়েছিল। পরে পদ ফিরে পেলেও দলের সঙ্গে তাঁর দূরত্ব কমেনি। সম্প্রতি রাজ্যের নতুন বিজেপি সরকারকে অভিনন্দন জানানো এবং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে ধন্যবাদ জানিয়ে শান্তনু সেন তৃণমূলের অস্বস্তি চরম পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছিলেন। এমনকি আরজি কর কাণ্ডের তদন্তে নতুন সরকারকে সব ধরনের সাহায্য করার ইচ্ছাপ্রকাশও করেছিলেন তিনি।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তৃণমূল ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর সৌগত রায়ের মতো প্রবীণ নেতাদের জনরোষের মুখে পড়া এবং কুণাল ঘোষের মতো নেতাদের ‘শুদ্ধিকরণের’ ডাক দেওয়ার ঘটনা প্রমাণ করে যে দলের অন্দরে তীব্র মুষল পর্ব শুরু হয়েছে। শান্তনু সেনের মতো প্রথম সারির নেতার এই ‘বেসুরো’ অবস্থান এবং পদত্যাগ তৃণমূলের সাংগঠনিক ভিত্তি ও নৈতিক অবস্থানকে আরও দুর্বল করে তুলবে। অন্যদিকে, দুর্নীতিকে ঢাল করার যে অভিযোগ তিনি দলের বিরুদ্ধে এনেছেন, তা আগামী দিনে বিরোধীদের হাতে শাসকদলকে কোণঠাসা করার জন্য আরও বড় অস্ত্র তুলে দিল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *