তৃণমূলে বড় ভাঙনের ইঙ্গিত? বিজেপিতে যেতে তৈরি ৫০ বিধায়ক-২০ সাংসদ, দাবি সৌমিত্রর

পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এক বড়সড় তোলপাড় সৃষ্টি করেছে বিষ্ণুপুরের বিজেপি সাংসদ সৌমিত্র খাঁ-র সাম্প্রতিক দাবি। রাজ্যে সাম্প্রতিক পালাবদলের পর দলবদলের হাওয়া আরও জোরালো করে তিনি দাবি করেছেন, শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের প্রায় ৫০ জন বিধায়ক এবং ২০ জন সাংসদ বিজেপিতে যোগ দেওয়ার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত হয়ে আছেন। কেন্দ্রীয় বিজেপি নেতৃত্ব সবুজ সংকেত দিলেই এই দলবদল সম্পন্ন হবে এবং এর ফলে রাজনৈতিক দল হিসেবে তৃণমূলের আর কোনো অস্তিত্বই থাকবে না। সৌমিত্র খাঁ-র এই বিস্ফোরক মন্তব্যের পর থেকেই রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে নতুন সমীকরণ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।
তৃণমূল শিবিরে অসন্তোষ ও দলবদলের কারণ
বিজেপি সাংসদের দাবি অনুযায়ী, তৃণমূলের এই বিপুল সংখ্যক জনপ্রতিনিধি বর্তমান দলীয় নেতৃত্বের ওপর চরম অসন্তুষ্ট। দীর্ঘদিন ধরে দলের অভ্যন্তরে জমতে থাকা ক্ষোভ এবং সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তনই এই সম্ভাব্য দলবদলের মূল কারণ বলে মনে করা হচ্ছে। এর পাশাপাশি তৃণমূলের একাধিক শীর্ষ নেতার বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ দলটিকে ব্যাকফুটে ঠেলে দিয়েছে। বিশেষ করে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে তীব্র আক্রমণ করে সৌমিত্র খাঁ জানিয়েছেন, পূর্ববর্তী হিংসার ঘটনার ‘পাপের শাস্তি’ হিসেবেই এই পতন অবশ্যম্ভাবী। যদিও তৃণমূল কংগ্রেসের প্রবীণ সাংসদ সৌগত রায় এই দাবিকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও অসত্য বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।
প্রশাসনিক বৈঠক ও গণ ইস্তফায় বাড়ছে জল্পনা
সৌমিত্র খাঁ-র এই দাবিকে একেবারে হালকাভাবে নিতে পারছেন না রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা, কারণ সাম্প্রতিক কিছু ঘটনা এই জল্পনাকে আরও উসকে দিচ্ছে। ইতিমধ্যেই বারাসাতের তৃণমূল সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার দলের সমস্ত পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন এবং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রশাসনিক বৈঠকে যোগ দিয়েছেন। একইভাবে উত্তরবঙ্গে মন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিকের বৈঠকেও তৃণমূলের ১৩ জন বিধায়ক উপস্থিত হয়ে সহযোগিতার বার্তা দিয়েছেন। এর পাশাপাশি রাজ্যজুড়ে বিভিন্ন পুরসভায় কাউন্সিলর ও পুরপ্রধানদের গণ ইস্তফার ঘটনা ঘটছে।
এই দলবদল যদি সত্যিই বাস্তবে রূপ নেয়, তবে তা রাজ্যের শাসকদলের সাংগঠনিক কাঠামোকে পুরোপুরি ভেঙে চুরমার করে দেবে। বিধানসভা ও লোকসভায় তৃণমূলের শক্তি নাটকীয়ভাবে হ্রাস পাওয়ার পাশাপাশি রাজ্য রাজনীতিতে বিজেপির একাধিপত্য প্রতিষ্ঠার পথ আরও সুগম হতে পারে।