হেরিটেজ বাফার জোনে ঝুলিয়ে মাংস বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা বিশ্বভারতীর, ক্ষোভ নাকি সহমত ব্যবসায়ীদের?

হেরিটেজ বাফার জোনে ঝুলিয়ে মাংস বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা বিশ্বভারতীর, ক্ষোভ নাকি সহমত ব্যবসায়ীদের?

বিশ্বভারতীর হেরিটেজ বাফার জোনের অন্তর্গত শ্যামবাটি বাজার সংলগ্ন এলাকায় প্রকাশ্যে এবং ঝুলিয়ে মাংস বিক্রির ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। আদালতের নির্দেশ এবং স্বাস্থ্যবিধির বিষয়টি মাথায় রেখে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি ওই এলাকায় মাইকিং করে ব্যবসায়ীদের সতর্ক করার পাশাপাশি স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে মাংস বিক্রির নির্দেশ দেওয়া হয়। বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষের এই আকস্মিক সিদ্ধান্তে এলাকায় সাময়িক চাঞ্চল্য ছড়ালেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

নিষেধাজ্ঞার কারণ ও জনস্বাস্থ্যের প্রশ্ন

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত জনসংযোগ আধিকারিক অতিগ ঘোষ জানিয়েছেন, নির্মীয়মাণ মার্কেটের যে অংশে দোকানগুলি চালানো হচ্ছিল, তা বিশ্বভারতীর হেরিটেজ বাফার জোনের আওতাভুক্ত। পূর্বে সেখান থেকে ব্যবসায়ীদের সরিয়ে দেওয়া হলেও পরবর্তীতে কয়েকজন আবারও দোকানপাট বসিয়ে ব্যবসা শুরু করেন। শান্তিনিকেতন আশ্রম এলাকার পরিবেশ ও ঐতিহ্য রক্ষা করার পাশাপাশি রাজ্যজুড়ে খোলা অবস্থায় মাংস বিক্রির ওপর যে কড়াকড়ি চলছে, তারই অংশ হিসেবে এই সিদ্ধান্ত। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, খোলা দোকানে মাংস ঝুলিয়ে রাখার ফলে ধুলোবালি ও মাছির উপদ্রব বাড়ছিল এবং দুর্গন্ধের কারণে জনস্বাস্থ্যের নানাবিধ সমস্যা তৈরি হচ্ছিল। তাই পরিবেশ ও স্বাস্থ্য সুরক্ষায় আদালতের নির্দেশ মেনে কর্তৃপক্ষের এই কড়াকড়িকে স্বাগত জানিয়েছেন সাধারণ মানুষ।

ব্যবসায়ীদের প্রতিক্রিয়া ও ভবিষ্যৎ প্রভাব

কর্তৃপক্ষের এই কড়া অবস্থানের পর স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া মিলেছে। প্রথমে নিরাপত্তারক্ষীরা এসে দোকান সরানোর নির্দেশ দিলেও পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার বিষয়টি স্পষ্ট করা হয়। স্থানীয় মাংস ব্যবসায়ী উৎপল মুখোপাধ্যায় জানিয়েছেন, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের এই সিদ্ধান্ত তারা মেনে নিয়েছেন এবং নিয়মানুযায়ী ব্যবসা পরিচালনা করবেন। এই নিষেধাজ্ঞার ফলে শান্তিনিকেতনের ঐতিহ্যবাহী বাফার জোনের পরিবেশ দূষণমুক্ত থাকবে এবং ক্রেতারা আরও পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে খাদ্যসামগ্রী সংগ্রহ করতে পারবেন বলে আশা করা হচ্ছে। পুরো বিষয়টি নিয়ে বর্তমানে পুরসভার সঙ্গেও আলোচনা চালাচ্ছে বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *