দেড়শো আসনে লুটের অভিযোগ, প্রার্থীদের অনীহায় মাত্র পঞ্চাশটি কেন্দ্রে আইনি লড়াইয়ের পথে তৃণমূল

দেড়শো আসনে লুটের অভিযোগ, প্রার্থীদের অনীহায় মাত্র পঞ্চাশটি কেন্দ্রে আইনি লড়াইয়ের পথে তৃণমূল

নির্বাচনে অন্তত দেড়শোটি আসনে বিজেপি ভোট লুট করেছে বলে ফল প্রকাশের পর সরব হয়েছিলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু ভোটের পর আইনি লড়াইয়ের ময়দানে নামার ক্ষেত্রে খোদ দলের পরাজিত প্রার্থীরাই এখন বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছেন। পরাজয়ের গ্লানি ও চরম হতাশা গ্রাস করায় বেশিরভাগ পরাজিত প্রার্থীই নতুন করে মামলার আইনি টানাপোড়েনে জড়াতে চাইছেন না। ফলে দেড়শো আসনের অভিযোগ থাকলেও, শেষ পর্যন্ত আপাতত মাত্র ৫০টি কেন্দ্রের তথ্য জোগাড় করে আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে তৃণমূল কংগ্রেস।

হতাশায় ভুগছেন পরাজিত প্রার্থীরা

দলীয় সূত্রে খবর, পরাজিত প্রার্থীরা নেতৃত্বকে স্পষ্ট বুঝিয়ে দিয়েছেন যে রাজ্যে যেখানে বিজেপি ইতিমধ্যেই সরকার গড়ে ফেলেছে, সেখানে মামলা করে দু-একটি আসনে জয় এলেও সামগ্রিক রাজনৈতিক চিত্রে কোনো বদল আসবে না। কারণ এতে তৃণমূল পুনরায় ক্ষমতায় ফিরতে পারবে না। দলের একটি বড় অংশের মধ্যে এই মুহূর্তে চরম মানসিক হতাশা এবং দল ধরে রাখার সংকট তৈরি হয়েছে। ফলে নতুন করে লড়াইয়ের মানসিক শক্তি পাচ্ছেন না অনেকেই। তবে নেতৃত্বের একাংশ তাঁদের বোঝানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তাঁদের মতে, এই আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে অন্তত একটি আসনেও যদি কারচুপি প্রমাণ করা যায়, তবে দলনেত্রীর ভোট লুটের অভিযোগ যে মিথ্যা ছিল না, তা দেশবাসীর সামনে প্রমাণিত হবে।

আইনি লড়াইয়ের প্রস্তুতি ও সময়সীমা

আইনি নিয়ম অনুযায়ী, নির্বাচনী ফলাফল প্রকাশের ৪৫ দিন বা দেড় মাসের মধ্যে আদালতে মামলা দায়ের করতে হয়। গত ৪ মে ফল প্রকাশের পর এই রাজ্যে মামলা করার শেষ সময়সীমা আগামী ২০ জুন। বর্তমানে আদালতে গ্রীষ্মকালীন অবকাশ চলায় জুন মাসের প্রথম সপ্তাহে আদালত খোলার পরপরই এই মামলাগুলি দায়ের করার পরিকল্পনা রয়েছে মমতার। দল প্রথমে ১০০টি কেন্দ্রের তথ্য জোগাড়ের লক্ষ্যমাত্রা নিলেও প্রার্থীদের অনীহার কারণে আপাতত ৬০টির কাছাকাছি আসনের তথ্য হাতে এসেছে। এই পরিস্থিতিতে অন্তত ১০টি মামলা ২০ জুনের মধ্যে প্রাথমিকভাবে দায়ের করিয়ে নেওয়ার মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছে তৃণমূল নেতৃত্ব।

মামলার মূল হাতিয়ার কারচুপি ও ইভিএম বিতর্ক

এই আইনি লড়াইয়ে তৃণমূলের মূল অস্ত্র হতে চলেছে ভোটার তালিকায় অসঙ্গতি এবং গণনাকেন্দ্রের সিসিটিভি ফুটেজ। তৃণমূলের দাবি, বহু কেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থীর জয়ের মার্জিনের চেয়ে ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া (ডিলিশন ও অ্যাডজুডিকেশন) ভোটারের সংখ্যা অনেক বেশি ছিল। এছাড়া সারাদিন ভোটগ্রহণের পরেও ইভিএমে কীভাবে ৯০ শতাংশ চার্জ থাকে, তা নিয়ে প্রযুক্তিগত প্রশ্ন তোলা হবে। পাশাপাশি ভিভিপ্যাট ইউনিটের সিরিয়াল নম্বরের অমিল এবং গণনাকেন্দ্রে তৃণমূলের কাউন্টিং এজেন্টদের ওপর বিজেপির শারীরিক ও মানসিক অত্যাচারের সিসিটিভি ফুটেজকেও আদালতে বড় প্রমাণ হিসেবে পেশ করতে চলেছে তৃণমূল কংগ্রেস।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *