‘মাটি লুট’ মা মাটির মানুষের! তৃণমূলের মাতব্বরদের বেআইনি কারবার, তীব্র আতঙ্কে গ্রামবাসীরা

‘মাটি লুট’ মা মাটির মানুষের! তৃণমূলের মাতব্বরদের বেআইনি কারবার, তীব্র আতঙ্কে গ্রামবাসীরা

নিজস্ব প্রতিনিধি, কেতুগ্রাম: আর বড়জোড় ক’দিন, তার পরেই রাজ্যে আছড়ে পড়বে বর্ষা। আর তার আগেই পূর্ব বর্ধমানের কেতুগ্রাম-২ ব্লকের মৌগ্রামে বাবলা নদীর পাড় কেটে যেভাবে দেদার বালি ও মাটি লুট করা হচ্ছে, তাতে এলাকার কয়েক হাজার বাসিন্দার রাতের ঘুম উড়েছে। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ যে, নদীর গতিপথ কার্যত বদলে দিয়ে মূল জলধারার সঙ্গে সংযোগ করে বড় বড় কৃত্রিম ‘টানেল’ বা সুড়ঙ্গ তৈরি করা হচ্ছে। এর ফলে ইতিমধ্যেই নদীর পাড়ে ব্যাপক ধস নামতে শুরু করেছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, বর্ষায় নদীর জল সামান্য বাড়লেই এই টানেলগুলি দিয়ে হু হু করে জল ঢুকে আশেপাশের গ্রামগুলির অস্তিত্ব চিরতরে মানচিত্র থেকে মুছে দিতে পারে।

তৃণমূলের মাতব্বরদের বেআইনি কারবার, বীতশ্রদ্ধ এলাকা

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, এই মারাত্মক মাটি ও বালি মাফিয়া চক্রের নেপথ্যে রয়েছে বিগত শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের কয়েকজন স্থানীয় মাতব্বর ও প্রভাবশালী নেতা। মা-মাটি-মানুষের স্লোগান দিয়ে ক্ষমতায় থাকা দলের নেতারাই এখন নিজেদের আখের গোছাতে নদীর বুক থেকে ‘মাটি লুটে’ মেতে উঠেছেন। এলাকার মানুষের দাবি, এতদিন রাজনৈতিক ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে এবং পুলিশ-প্রশাসনকে নিষ্ক্রিয় রেখে এই বেআইনি কারবার রমরমিয়ে চালানো হচ্ছিল। প্রতিবাদ করতে গেলে মিলত জুতো থেকে লাঠি। ফলে দীর্ঘদিন ধরে কেতুগ্রামের মানুষ এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে ভেতরে ভেতরে বীতশ্রদ্ধ ও ক্ষুব্ধ হয়ে পড়েছিলেন।

পালাবদলের পর এবার আইনি পদক্ষেপের দাবি

রাজ্যে রাজনৈতিক পরিবেশ পরিবর্তনের পর এবার আর মুখ বুজে থাকতে রাজি নন কেতুগ্রামের সাধারণ মানুষ। বর্ষার বিপর্যয়ের হাত থেকে নিজেদের ভিটেমাটি ও জীবন বাঁচাতে এবার একজোট হচ্ছেন গ্রামবাসীরা। প্রশাসনের কাছে তাঁদের স্পষ্ট দাবি, রাজনৈতিক রং না দেখে অবিলম্বে এই মাটি লুট বন্ধ করা হোক এবং যে সমস্ত তৃণমূল মাতব্বরেরা এই পরিবেশবিরোধী বেআইনি কাজের সঙ্গে যুক্ত, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ বা ‘বুলডোজার অ্যাকশন’ নেওয়া হোক। জেলা প্রশাসনের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, কেতুগ্রামের এই নদী পাড় কাটার বিষয়টি তাঁদের নজরে এসেছে এবং সেচ দফতরকে সঙ্গে নিয়ে দ্রুত সেখানে পরিদর্শনে যাওয়া হবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *