দলে বাড়ছে বিদ্রোহ, ক্ষোভ উগরে মমতার নতুন কবিতা ‘গিরগিটি’
.jpeg.webp?w=1200&resize=1200,628&ssl=1)
পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক পালাবদলের পর তৃণমূল কংগ্রেসে ক্রমশ বাড়ছে ভাঙন ও অভ্যন্তরীণ অসন্তোষ। ক্ষমতা হারানোর পর থেকেই দলের একাধিক নেতা তৃণমূলের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে সরব হয়েছেন। একই সঙ্গে রাজ্যজুড়ে শুরু হয়েছে পদত্যাগের হিড়িক। দলের এই কঠিন সময়ে এবং একের পর এক নেতার দলবদলের আবহেই তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশ করলেন নতুন কবিতা ‘গিরগিটি।’ রাজনৈতিক মহলের মতে, এই রচনার মাধ্যমে তিনি দলের বিদ্রোহী ও সুযোগসন্ধানী নেতাদের তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন।
কবিতার ছত্রে ছত্রে স্বার্থপরতার ব্যঙ্গ
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর কবিতায় রঙ বদলানো সমাজ ও রাজনীতির আচরণকে অত্যন্ত ইঙ্গিতপূর্ণ ভাষায় তুলে ধরেছেন। কবিতার একটি অংশে তিনি লিখেছেন, গিরগিটির থেকেও ভয়ঙ্কর হলেন সেইসব বহুরূপী, যাঁরা নিজেদের আর্থিক লেনদেন ও স্বার্থের খাতিরে মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে নিজেদের ভোল বদলে ফেলেন। সুযোগ পেলেই এই ধরনের মানুষেরা সম্পর্ক, আদর্শ ও দীর্ঘদিনের বিশ্বাস এক নিমেষে বিসর্জন দিতে পারেন। পুরোনো উপকার ভুলে গিয়ে মানুষ যখন নিজের ব্যক্তিগত লাভের জন্য পক্ষ পরিবর্তন করে, তখন সমাজের প্রকৃত মানবিকতা ও কৃতজ্ঞতাবোধ হারিয়ে যায় বলে আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী।
দলবদল ও বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
রাজ্যে নতুন বিজেপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই রাজনৈতিক সমীকরণ দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। কলকাতা সহ বিভিন্ন জেলায় পুরসভা ও পুলিশ প্রশাসনকে সঙ্গে নিয়ে বেআইনি নির্মাণ ভাঙা এবং ফুটপাত উচ্ছেদ অভিযান বা ‘বুলডোজার অ্যাকশন’ শুরু হয়েছে। এর আগে এই উচ্ছেদ অভিযানের বিরোধিতা করে ‘দখল’ নামে আরও একটি কবিতা লিখেছিলেন তৃণমূলনেত্রী। তবে এবারের ‘গিরগিটি’ কবিতার লক্ষ্য মূলত দলের অন্দরের পরিস্থিতি। ক্ষমতাচ্যুতির পর যারা দল ছাড়ছেন বা দলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন, তাঁদের উদ্দেশ্য করেই কবিতার শেষে প্রশ্ন তোলা হয়েছে, ‘আর কত চাও? নিজেদের ভোল বদলাতে?’
প্রভাব ও রাজনৈতিক তাৎপর্য
বিশ্লেষকদের মতে, ক্ষমতা হারানোর পর রাজপথের লড়াইয়ের পাশাপাশি মমতার এই ‘কবিতা-যুদ্ধ’ আসলে দলের কর্মীদের চাঙ্গা রাখার এবং দলবদলুদের প্রতি কড়া বার্তা দেওয়ার কৌশল। একদিকে যখন একের পর এক নেতা দল ছাড়ছেন, তখন এই কবিতার মাধ্যমে তিনি স্পষ্ট করে দিলেন যে প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও তিনি আদর্শের লড়াই থেকে পিছু হটছেন না। তবে এই কবিতার মাধ্যমে দলের ভেতরে তৈরি হওয়া ক্ষোভ ও বিদ্রোহ কতটা সামাল দেওয়া যাবে, তা আগামী সময়ই বলবে।