লক্ষ্মীর ভান্ডারের বদলে এবার অন্নপূর্ণা ভান্ডার, টাকা পেতে বাচ্চার স্কুলের তথ্যও দিতে হবে মহিলাদের!

লক্ষ্মীর ভান্ডারের বদলে এবার অন্নপূর্ণা ভান্ডার, টাকা পেতে বাচ্চার স্কুলের তথ্যও দিতে হবে মহিলাদের!

পশ্চিমবঙ্গে নতুন বিজেপি সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি মতো চালু হতে চলেছে ‘অন্নপূর্ণা ভান্ডার’ প্রকল্প। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বুধবার সাংবাদিক বৈঠক করে এই প্রকল্পের ফর্ম প্রকাশের কথা ঘোষণা করেছেন। ভোটের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, রাজ্যের মহিলারা এবার থেকে প্রতি মাসে ৩০০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা পাবেন। পূর্বতন সরকারের ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’ প্রকল্পের উপভোক্তারা তো বটেই, সেই সঙ্গে নতুন আবেদনকারীরাও এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন। তবে এই টাকা পাওয়ার প্রক্রিয়াটি আগের চেয়ে অনেকটাই বিস্তারিত এবং পুঙ্খানুপুঙ্খ করা হয়েছে।

কঠোর নজরদারির ১২ পাতার ফর্ম

অন্নপূর্ণা ভান্ডার প্রকল্পের সুবিধা পেতে আবেদনকারী মহিলাদের মোট বারো পাতার একটি দীর্ঘ ও বিস্তারিত ফর্ম পূরণ করতে হবে। এই ফর্মে পরিবারের অর্থনৈতিক ও সামাজিক অবস্থার যাবতীয় খুঁটিনাটি তথ্য চাওয়া হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রকল্পের স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবং প্রকৃত অর্থেই যোগ্য ব্যক্তিদের চিহ্নিত করতেই এই কঠোর যাচাইকরণ প্রক্রিয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

শিশুদের পড়াশোনা ও স্বাস্থ্যের তথ্য বাধ্যতামূলক

নতুন এই ফর্মের ৯ নম্বর পাতায় ‘সামাজিক মর্যাদা এবং নির্ভরশীল ব্যক্তিগন’ অংশে পরিবারের শিশুদের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য চাওয়া হয়েছে। বাড়িতে কোনো শিশু থাকলে সে সরকারি, বেসরকারি নাকি মাদ্রাসায় পড়াশোনা করছে, তার নাম এবং শ্রেণির বিবরণ দিতে হবে। শুধু তাই নয়, শিশুর যথাযথ টিকাকরণ হয়েছে কি না, সেই সংক্রান্ত স্বাস্থ্যগত তথ্য জানানোও বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এর মাধ্যমে মূলত প্রান্তিক পরিবারগুলোর শিশুদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের ওপর সরকারি নজরদারি জোরদার করার একটি চেষ্টা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

আর্থিক অবস্থা ও আইনি যাচাইকরণ

আবেদনকারী পরিবারের বার্ষিক আয়, সদস্যদের চাকরি এবং স্বাস্থ্যবিমার তথ্যের পাশাপাশি আবেদনকারীর পাকা বাড়ি কিংবা চারচাকা গাড়ি আছে কি না, তা স্পষ্ট জানাতে হবে। এছাড়া, পরিবারের সব সদস্যের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নম্বর, আইএফএসসি কোড এবং রেশন কার্ডের বিবরণ দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। একই সঙ্গে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ) অনুযায়ী সার্টিফিকেটের আবেদন এবং এসআইআর প্রক্রিয়ার ট্রাইবুনালে নাম বিচারাধীন থাকার মতো সংবেদনশীল আইনি তথ্যও সরকারকে জানাতে হবে। এই ব্যাপক তথ্যানুসন্ধানের ফলে রাজ্যজুড়ে প্রকৃত অভাবী পরিবারগুলোকে চিহ্নিত করা যেমন সহজ হবে, তেমনই ভুয়া আবেদনকারীদের বাদ দেওয়া সম্ভব হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *