অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্মে এবার পুরো পরিবারের কড়া নজরদারি, বাদ পড়তে পারেন লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের ৩০ লক্ষ প্রাপক!

অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্মে এবার পুরো পরিবারের কড়া নজরদারি, বাদ পড়তে পারেন লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের ৩০ লক্ষ প্রাপক!

রাজ্যের লক্ষাধিক মহিলার অধীর প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে প্রকাশ পেয়েছে ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’র আবেদনপত্র। তবে এই ফর্মের খুঁটিনাটি খতিয়ে দেখে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে যে, এবার সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পাওয়া আগের চেয়ে অনেকটাই কঠিন হতে চলেছে। কোনো রকম অনিয়ম বা বেনোজল রুখতে রাজ্য সরকার এবার আবেদনকারীর পাশাপাশি তাঁর পুরো পরিবারের ওপর কড়া নজরদারির ব্যবস্থা করেছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আগেই বার্তা দিয়েছিলেন যে, কেবল প্রকৃত যোগ্যরাই এই সুবিধা পাবেন। সেই লক্ষ্যে এবার আবেদনকারীর পরিবারের প্রতিটি সদস্যের আবন্তরীণ ও ব্যক্তিগত তথ্য তলব করা হয়েছে ফর্মে, যা প্রশাসনিক মহলে বেশ সাড়া ফেলে দিয়েছে।

যোজনার ফর্মে তথ্যের কড়াকড়ি

নতুন এই আবেদনপত্রে পরিবারের প্রধান বা কর্তার আধার নম্বর ও রেশন কার্ডের আইডি দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এর পাশাপাশি পরিবারের সব সদস্যের নাম, জন্ম তারিখ, লিঙ্গ, আধার নম্বর এবং ভোটার আইডি (এপিক) নম্বর, বিধানসভা কেন্দ্র ও পার্ট নম্বরের মতো সংবেদনশীল তথ্য চাওয়া হয়েছে। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, পরিবারের প্রত্যেক সদস্যের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নম্বর, আইএফএসসি কোড এবং প্যান নম্বরের বিবরণও ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। এছাড়া, পরিবারের সদস্যরা সরকারি বা বেসরকারি কোনো ক্ষেত্রে চাকরি করেন কি না, ব্যবসায় যুক্ত কি না, তাঁদের শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং কোনো স্বাস্থ্য বিমা আছে কি না—সবই জানাতে হবে সরকারকে। এমনকি ঘরের শিশুদের স্কুলের নাম এবং তারা সরকারি, বেসরকারি নাকি মাদ্রাসায় পড়ে, সেই তথ্যও বাদ যাচ্ছে না।

প্রাপক ছাঁটাইয়ের আশঙ্কা ও সম্ভাব্য প্রভাব

এই কড়া স্ক্রিনিং বা তথ্য যাচাইয়ের মূল কারণ হলো ভুয়ো আবেদনকারী চিহ্নিত করা। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, স্বচ্ছতা বজায় রাখতে সবদিক খুঁটিয়ে দেখা হচ্ছে এবং এর ফলে পূর্বতন লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের তালিকায় থাকা অন্তত ৩০ লক্ষ নাম বাদ পড়তে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, পরিবারের সবার ব্যাঙ্ক বিবরণ ও প্যান নম্বর চাওয়ার ফলে পরিবারের প্রকৃত আর্থিক অবস্থা সহজেই সরকারের নজরে চলে আসবে। যারা আর্থিকভাবে সচ্ছল হওয়া সত্ত্বেও এই ধরনের সামাজিক সুরক্ষামূলক প্রকল্পের সুবিধা নিচ্ছিলেন, তাঁরা অনায়াসেই বাদ পড়ে যাবেন। ফলে সরকারের রাজকোষের ওপর চাপ কমবে এবং প্রকৃত অভাবী ও যোগ্য মহিলাদের কাছেই এই যোজনার আর্থিক সাহায্য পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে। তবে এত বিপুল তথ্যের জোগাড় ও যাচাই প্রক্রিয়ার কারণে সাধারণ আবেদনকারীদের প্রাথমিক কিছু প্রশাসনিক জটিলতার সম্মুখীন হতে হতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *