রেড রোডের বদলে এবার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ড, প্রশাসনের সিদ্ধান্তে স্বস্তিতে পুণ্যার্থীরা

ধর্মীয় সম্প্রীতি ও উৎসবের আবহে এক ঐতিহাসিক পরিবর্তনের সাক্ষী হলো তিলোত্তমা। প্রতি বছরের চেনা ছবি বদলে এবার পবিত্র ইদ-উল-অযহার প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হলো কলকাতার ঐতিহাসিক ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে। এর আগে সাধারণত রেড রোডেই এই বিশেষ নামাজ অনুষ্ঠিত হতো। তবে সুরক্ষাবিধি ও প্রশাসনিক কারণে এবার নামাজের স্থান পরিবর্তন করা হলেও, উৎসবের সকালে পুণ্যার্থীদের উৎসাহে কোনো খামতি দেখা যায়নি। সুন্দর ও সুশৃঙ্খল পরিবেশের মধ্য দিয়ে সকাল থেকেই হাজার হাজার মানুষ ব্রিগেডের মাঠে নামাজ আদায়ে শামিল হন।
প্রশাসনের তৎপরতা ও বিকল্প ব্যবস্থা
পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে রেড রোডে নামাজ পড়ার ক্ষেত্রে কিছু জটিলতা তৈরি হওয়ায় রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে দ্রুত বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডকে বেছে নেওয়া হয়। সরকারের এই সময়োপযোগী ও ইতিবাচক পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানিয়েছেন বিশিষ্টজনেরা। এই প্রসঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের বর্ষীয়ান নেতা জাভেদ আহমেদ খান রাজ্য সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, “আমি সরকারকে ধন্যবাদ জানাতে চাই যে তারা নামাজ আদায়ে নিষেধাজ্ঞা জারি করেনি এবং এর জন্য একটি বিকল্প জায়গার ব্যবস্থা করে দিয়েছে।” উৎসবের দিনে নামাজ পড়ার জন্য প্রশাসনের তরফে এই বিকল্প স্থানের সিদ্ধান্ত এবং ধর্মীয় ভাবাবেগকে যে পূর্ণ মান্যতা দেওয়া হয়েছে, তার প্রশংসা করেন তিনি।
সামাজিক প্রভাব ও সম্প্রীতির বার্তা
বিশেষজ্ঞদের মতে, কলকাতার মতো এক জনবহুল মহানগরে যেকোনো বড় ধর্মীয় সমাবেশের স্থান পরিবর্তন করা অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয়। তবে রাজ্য প্রশাসন যেভাবে আইনশৃঙ্খলার দিকটি বজায় রেখে পুণ্যার্থীদের জন্য বিশাল এই বিকল্প জায়গার ব্যবস্থা করেছে, তা সামাজিক স্তরে অত্যন্ত ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। সরকারের এই সিদ্ধান্ত একদিকে যেমন বড় জমায়েতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে, অন্যদিকে নাগরিকদের ধর্মীয় আবেগের প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করে সম্প্রীতির বার্তাকে আরও সুদৃঢ় করেছে। প্রশাসনের এই দূরদর্শী ভূমিকার কারণে কোনো রকম অপ্রীতিকর পরিস্থিতি ছাড়াই শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হলো ইদের নামাজ।